পাবনা মানসিক হাসপাতালে ১,৩৬৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন

  • পাবনা প্রতিনিধি: | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২৫, ০৫:৪৮ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

দেশের প্রায় সোয়া চার কোটি মানসিক রোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১,৩৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে। খবরে পাবনার মানুষের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পাবনা মানসিক হাসপাতাল আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল হিসেবে রূপান্তরিত হবে। তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৩৬৫ কোটি টাকা। শয্যা সংখ্যা ৫শ’ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার হবে। সঙ্গে থাকবে গবেষণা, কেস স্টাডি ও রোগীদের পুনর্বাসন ব্যবস্থা।

প্রকল্পটি প্রায় দুই বছর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উদ্যোগে গ্রহণ করা হয়েছিল। একনেকে অনুমোদনের আগে স্তিমিত হয়ে গেলেও পরে বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বিষয়টি উত্তোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

পাবনা মানসিক হাসপাতালের সূত্র জানায়, দেশে জনসংখ্যার প্রতি চারজনের একজন মানসিক রোগী। ১৭ কোটি জনসংখ্যার দেশে প্রায় সোয়া চার কোটি মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত। পাবনা মানসিক হাসপাতাল ও ঢাকার মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ছাড়া সেবা নেই।

বর্তমান শয্যা সংখ্যা মাত্র ৫শ’, এর মধ্যে ৩৫০টি জেনারেল বেড এবং ১৫০টি পেয়িং বেড। সব বেডেই রোগী ভর্তি থাকে সারাবছর। দেশের বিভিন্ন বড় হাসপাতালেও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা অপ্রতুল। ঢাকার মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে এক সময় ১শ’ মানুষ চিকিৎসা নিতে পারে। ফলে দেশের সোয়া চার কোটি মানসিক রোগীর মধ্যে মাত্র দশমিক ১৬৭ শতাংশ সেবা পাচ্ছে।

এক কর্মকর্তা জানান, একজন রোগীর জন্য দিনে ১০ প্রকারের ঔষধ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র তিন প্রকার দেওয়া হচ্ছে। খাবারের মানও সন্তোষজনক নয়। ফলে রোগীরা প্রোটিনের অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া সাতজন রোগী সুস্থ হওয়ার পরও দীর্ঘ ৪০-৫০ বছর হাসপাতালে রয়েছেন।

পাবনা মানসিক হাসপাতাল ১৯৫৭ সালে অস্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৯ সালে হেমায়েতপুরে স্থানান্তরিত হলে শয্যা সংখ্যা ছিল ৬০টি। বর্তমানে শয্যা ৫শ’ হলেও চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা কম। বর্তমানে ৩১ জন চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত ২২ জন, ১১৯ জন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর বিপরীতে ৭২ জন এবং ১৭০ জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর বিপরীতে ৬১ জন কাজ করছেন।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সেলিম মোরশেদ বলেন, একজন রোগীর জন্য মেডিসিন, সেবা ও প্রোটিন অপরিহার্য। একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের সোয়া চার কোটি মানুষকে চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ এহিয়া কামাল জানান, শয্যা সংখ্যা ১০০০ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শয্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি যথাযথ জনবল নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস জানান, পাবনা ও দেশের মানসিক রোগীদের জন্য এটি সুখবর। তিনি ভেরিফাইড ফেসবুকে লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। পাবনা মানসিক হাসপাতাল ৫০০ শয্যা থেকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত হবে। দেশের মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”

পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, এই প্রকল্প অনুমোদনের মাধ্যমে সরকার পাবনাবাসীর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিন বিশ্বাসও বলেন, এটি পাবনাবাসীর জন্য যুগান্তকারী খবর।

এসএইচ