রাজশাহীর পবা উপজেলায় পেয়ারা বাগানের আড়ালে গাঁজা চাষের ঘটনা ধরা পড়েছে। পুলিশের অভিযানে প্রায় সাড়ে ৯ ফুট লম্বা একটি গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, উদ্ধার করা গাছটি থেকে প্রাপ্ত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লাখ টাকার বেশি। এ ঘটনায় বাগানের মালিক কৃষক মাজেদ আলীকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পবা থানার একটি আভিযানিক দল উপজেলার দুর্গা পারিলা এলাকার একটি পেয়ারা বাগানে অভিযান চালায়। সেখান থেকে গাঁজা গাছটি উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই মাজেদ আলীকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক মাজেদ আলী দুর্গা পারিলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় কৃষক এবং তাঁর মালিকানাধীন প্রায় ১১ কাঠা আয়তনের পেয়ারা বাগানের ভেতরে গাছের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা গাছটির পরিচর্যা করে আসছিলেন। একপর্যায়ে গাছটি অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে প্রায় সাড়ে ৯ ফুট উচ্চতায় পৌঁছে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেয়ারা বাগানের ভেতরে একটি অস্বাভাবিক লম্বা গাছ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা বিষয়টি পুলিশকে জানালে অভিযান চালিয়ে গাঁজা গাছটি জব্দ করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, জব্দ করা গাঁজা গাছটি থেকে উৎপাদিত গাঁজার বাজারমূল্য আনুমানিক দুই লাখ টাকার বেশি হতে পারে।
এলাকাবাসী জানান, মাজেদ আলী পারিবারিকভাবে সচ্ছল ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই পেয়ারা বাগান দেখাশোনা করতেন। তবে সম্প্রতি এলাকার কিছু বখাটে যুবকের সঙ্গে তাঁর মেলামেশা বেড়েছিল। সেই সূত্র ধরেই তিনি এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকতে পারেন বলে তাঁদের ধারণা। তাঁরা দাবি করেন, এর আগে গাঁজা গাছের বিষয়ে কেউ কিছু জানতেন না।
অভিযানে পবা থানার উপপরিদর্শক আশিকুল ইসলাম, উপপরিদর্শক এস এম আসিব নাসিব, সহকারী উপপরিদর্শক আল-আমিন ও সহকারী উপপরিদর্শক হারুনুর রশিদ অংশ নেন।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান জানান, দুর্গা পারিলা এলাকা থেকে গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হয়েছে এবং জমির মালিক ও পরিচর্যাকারী মাজেদ আলীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এসএইচ