জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর শহিদদের রক্তে লেখা: আলী রীয়াজ

  • রংপুর ব্যুরো | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
ফাইল ছবি

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) ও গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর শহিদদের রক্তে লেখা। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মর্যাদা রক্ষার দায় থেকেই এই সনদ রচিত হয়েছে।

বুধবার বিকেলে রংপুরের শহিদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নির্বাচনের জন্য নয়; এটি আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণের ভোট। যাঁরা গণতন্ত্র ও ন্যায়ের সংগ্রামে জীবন দিয়েছেন, গুম-খুনের শিকার হয়েছেন কিংবা নির্যাতিত হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে এই রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপর অর্পিত হয়েছে। সাম্য, ইনসাফ ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে একটি সমাজ প্রতিষ্ঠাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

গণভোটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরেও দেশের সাধারণ নাগরিকদের মতামত প্রদানের অধিকার নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সবাইকে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা) মনির হায়দার বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ দেশে ইনসাফ কায়েমের এক ঐতিহাসিক দলিল। বিগত ৫৪ বছরের বৈষম্যের ইতিহাস মুছে ফেলা, স্বাধীনতার প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন এবং ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা জরুরি।

তিনি বলেন, এই গণভোটকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে একটি চক্র শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই অপপ্রচার মোকাবিলা করে জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরাই প্রচার কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য।

শহিদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তিনি বলেন, ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে তাঁর আত্মাহুতি জাতি চিরকাল কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।

উপস্থিত ইমামদের উদ্দেশে মনির হায়দার বলেন, গণভোটের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জনসচেতনতা তৈরিতে কোনো আইনি বাধা নেই। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে অপশাসন ও বৈষম্যের অবসান ঘটবে এবং একটি নতুন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হবে।

রংপুর কারমাইকেল কলেজ জামে মসজিদের খতিব মোহাম্মদ আলী সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান।

সম্মেলনে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক ইমাম, সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সন্ধ্যায় দ্বিতীয় পর্বে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ে বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় অংশ নেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

এসএইচ