রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি

  • চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০২:১২ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

রমজানের শুরুতেই চুয়াডাঙ্গা শহরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। পবিত্র এই মাসে ইফতার ও সেহরির জন্য বাড়তি কেনাকাটার প্রয়োজন হলেও বাজারে অস্বাভাবিক দামের কারণে ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) শহরের বড় বাজারের নিচের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে ইফতারে ব্যবহৃত খেজুর, লেবু, কাঁচা মরিচ, বেগুন ও শসার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। খেজুরের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলেও জানান বিক্রেতারা।

শহরের বাসিন্দা ও ব্যাংকার হুমায়ুন কবির বলেন, রমজান অনুযায়ী জিনিসপত্রের যে দাম থাকার কথা, তা নেই। কলা, শসা, বেগুন, লেবু-সবকিছুর দাম বেড়েছে। আমাদের বেতন তো বাড়ে না, কিন্তু রোজায় দ্রব্যমূল্য ঠিকই বেড়ে যায়। অনেক ক্রেতাই অভিযোগ করেন, পকেটে টাকা থাকলেও এখন বাজারের ব্যাগ ভরে কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে গেছে। নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বলেও জানান তারা।

তবে মাছ ও মাংসের বাজার তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক রয়েছে। মাছ বিক্রেতা শ্রী পুন্নে বিশ্বাস বলেন, রোজায় মাছের বাজারে মন্দা চলছে। প্রতিটি মাছের দাম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কমেছে, খরিদদারও কম। মুরগি বিক্রেতা নাজিম জানান, রোজার আগে শীতের কারণে দাম বেশি ছিল, এখন মুরগির দাম কিছুটা কমেছে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণেই আছে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ইফতারের পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুদদারি বড় কারণ। খেজুর বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, যে খেজুর আগে ২০০ টাকা ছিল, এখন ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজায় অনেকেই মাল মজুদ করে রাখে, এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়।

তরমুজ বিক্রেতা সুমন মিয়া জানান, চুয়াডাঙ্গায় তরমুজ নেই। বরিশালেও পাওয়া যাচ্ছে না, পতেঙ্গা থেকে আনতে হচ্ছে। ১৫শ তরমুজ আনতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা গাড়িভাড়া লাগে। আমরা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করছি। রোজায় চাহিদা বেশি থাকায় নিলামে দাম বেড়ে যাচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা শাহিন আলী বলেন, রোজার আগে বেগুন ছিল ৮০ টাকা, এখন ১২০ টাকা। লেবু ৪০ টাকা হালি থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। কাঁচা মরিচ ২০০ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছে। রোজায় খিরা, লেবু ও ধনেপাতার চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছে, আমদানিও কম।

ফল বিক্রেতা ফিরোজ বলেন, আপেল ৩৫০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকা হয়েছে, মাল্টা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। প্রায় সব ফলেই কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। ক্রেতা জেসমিন আক্তার বলেন, বাজারে সব জিনিসে আগুনঝরা দাম। এভাবে চললে মধ্যবিত্তদের টিকে থাকাই কঠিন হবে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণ কমিটি, জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালাচ্ছে। তবে সাধারণ ক্রেতাদের মতে, দৃশ্যমান প্রভাব ফেলতে হলে বাজারে আরও কঠোর নজরদারি জরুরি।

এসএইচ