নলতা শরীফে প্রতিদিন ইফতার করেন সাড়ে ৬ হাজার রোজাদার

  • সাতক্ষীরা প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা: রমজান মাস এলেই সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা শরীফ পরিণত হয় এক ব্যতিক্রমী মানবিক মিলনমেলায়। ধনী, গরিব, গ্রাম, শহর কিংবা ভিন্ন পেশা ও পরিচয়ের মানুষ, সবাই একই কাতারে বসে অংশ নেন গণইফতারে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার রোজাদার এই ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘ নয় দশকের বেশি সময় ধরে চলে আসা এ আয়োজন এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ গণইফতার হিসেবে পরিচিত।

ঐতিহ্যবাহী নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের উদ্যোগে রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকরা জানান, প্রথম রমজান থেকে ৩০ রমজান পর্যন্ত প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোজাদার এখানে সমবেত হন।

সরেজমিনে দেখা যায়, খুব সকাল থেকেই শুরু হয় বিশাল প্রস্তুতি। ভোর ৫টা ১৫ মিনিট থেকে বাবুর্চিদের কর্মব্যস্ততা শুরু হয়, যা বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন অভিজ্ঞ বাবুর্চি ও কর্মী প্রতিদিন ইফতার প্রস্তুতে নিয়োজিত থাকেন। শিঙাড়া, ছোলা, সেদ্ধ ডিম, ফিরনি, কলা, খেজুর ও চিড়াসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার প্রস্তুত করা হয়।

মাগরিবের আগে সারিবদ্ধভাবে বসে পড়েন হাজারো রোজাদার। ইফতার বিতরণে প্রায় ৩০০ স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। পুরো আয়োজনজুড়ে শৃঙ্খলা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

জানা যায়, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী ইফতার মাহফিলটি ১৯৩৫ সাল থেকে প্রায় ৯০ বছর ধরে চলে আসছে। মিশনের প্রতিষ্ঠাতা হজরত খানবাহাদুর আহছানউল্লা (র.) মিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই ইফতারের সূচনা করেন। ১৯৫০ সাল থেকে এটি বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করা শুরু হয়। সময়ের ব্যবধানে আয়োজনের পরিধি বাড়লেও মূল লক্ষ্য অপরিবর্তিত, মানুষকে ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে আনা।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত কারিগর মুক্তার হোসেন জানান, প্রায় ৪৮ বছর ধরে তিনি এখানে শিঙাড়া তৈরির কাজে সম্পৃক্ত। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৬ হাজার শিঙাড়া প্রস্তুত করা হয়।

আরেক বাবুর্চি মো. আমানত বলেন, প্রতিদিন ভোর থেকেই আমরা কাজে নেমে পড়ি। ইফতারের সময় যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সে জন্য সবাই আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করি।

ইফতারে অংশ নেওয়া স্থানীয় জাকির হোসেন বলেন, এখানে সবাই একসঙ্গে বসে ইফতার করি। কোনো ভেদাভেদ নেই। এটি শুধু ইফতার নয়, আত্মিক প্রশান্তির জায়গা।

মিশনের সহকারী সম্পাদক আবুল ফজল জানান, দেশ-বিদেশের ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের আর্থিক সহযোগিতায় পুরো আয়োজন সম্পন্ন হয়। প্রতিদিন ইফতারের আগে ও পরে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

পিএস