হাদি হত্যার নেপথ্যের কুশীলবদের শাস্তির দাবি পরিবারের

  • ঝালকাঠি প্রতিনিধি  | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

ঝালকাঠি: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেন ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।

এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নেপথ্যের কুশীলবদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার। সোমবার (৯ মার্চ) সকালে ঝালকাঠির নলছিটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান শহীদের বোন মাসুমা হাদি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাসুমা হাদি বলেন, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে বিজয়নগর কালভার্ট রোডে ঘাতকদের গুলিতে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন শরিফ ওসমান বিন হাদি। পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন। ঘটনার ৮৭ দিন পার হলেও তদন্তকারী সংস্থা এখন পর্যন্ত আদালতে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট দাখিল করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্ত শুটার ফয়সাল ও আলমগীর গ্রেপ্তার হওয়ায় তাঁরা কিছুটা আশাবাদী। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। মাসুমা হাদি বলেন, ফয়সাল একজন শুটার মাত্র। এর পেছনে কারা জড়িত, কে নির্দেশ দিয়েছে, কে অর্থ জুগিয়েছে—সেসব তদন্তে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। শুধু ফয়সালের ফাঁসি দিয়ে অন্যদের আড়াল করা হলে তা কখনোই ন্যায়বিচার হবে না।

পরিবারের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে চার্জশিট দাখিলের দাবি জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে মাসুমা হাদি বলেন, ভাই হারানোর যন্ত্রণা আপনি বোঝেন। আমরা এই হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং পরিবারের নিরাপত্তা চাই। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা বা ‘দায়সারা’ চার্জশিট দেওয়া হলে ছাত্র-জনতা তা প্রত্যাখ্যান করবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

উল্লেখ্য, ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে গুলির শিকার হওয়ার পর হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে দাফন করা হয়।

নলছিটির সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শহীদ ওসমানের ভগ্নিপতি মনির হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৌহিদুল আলম মান্না, সাধারণ সম্পাদক সাইদুল কবির রানা প্রমুখ।

পিএস