ছদ্মপরিচয়ে যেভাবে নারীদের জিম্মি করে ধর্ষণ করতেন নুরুল হক

  • হবিগঞ্জ প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের বাহুবলে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) পরিচালনার আড়ালে কথিত মানবাধিকার নেতা নুরুল ইসলাম ওরফে নুরুল হক দীর্ঘদিন ধরে অসহায় নারীদের ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি চক্র পরিচালনার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যায় র‌্যাব-৯ এর শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল চুনারুঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, নুরুল হক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করে অসহায় নারীদের ওপর অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। ধর্ষণের পর নারীদের চেতননাশক ওষুধ খাইয়ে বিদেশে থাকা বন্ধু ও প্রবাসীদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মামলার ভিত্তিতে জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার এক তরুণী ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নুরুল হকের সংস্থায় যোগদানের পর তাকে প্রথমবার ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ধর্ষণের সময় ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেখিয়ে তাকে পাঁচ মাস ধরে জিম্মি রাখা হয়। এই ঘটনায় পরবর্তীতে আরও দুই নারী একই পরিস্থিতির শিকার হন।

র‌্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি চক্রের প্রধান অভিযুক্ত নুরুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মানবাধিকার সংস্থা ও এনজিওর আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কার্যক্রম চালানোর কথা স্বীকার করেছেন।”

বাহুবল মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, “মামলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের পর নুরুল হককে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, চক্রের অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

এসএইচ