৬ বছরেও শেষ হয়নি সড়ক, ঈদেও থাকবে ভোগান্তি

  • মো. পলাশ খান, শরীয়তপুর | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

শরীয়তপুর থেকে ঢাকায় সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করতে চার লেন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ছয় বছরেও শেষ হয়নি কাজ। ফলে ঈদযাত্রায়ও স্বস্তি পাচ্ছেন না এ অঞ্চলের মানুষ।

২০২০ সালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় শরীয়তপুর জেলা শহর থেকে পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প নেয়। ২০২১ সালে নির্মাণকাজ শুরু হলেও এখনো তা শেষ হয়নি।

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) জানায়, ভূমি অধিগ্রহণ শেষ না হওয়ায় প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় কাজ বন্ধ রয়েছে। জমি বুঝে না পাওয়ায় ওই অংশে ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারছেন না। এতে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।

সওজ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। এ জন্য ১০৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটি তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে—জেলা শহর থেকে জাজিরা পর্যন্ত প্রায় ১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার, জাজিরা টিএন্ডটি মোড় থেকে নাওডোবা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এবং দুটি সেতু ও দেড় কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ।

পদ্মা সেতু চালুর পর শরীয়তপুরসহ মাদারীপুর, বরিশাল ও চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকার মানুষের ঢাকায় যাতায়াত অনেক বেড়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার যানবাহন এ সড়ক ব্যবহার করে রাজধানীতে চলাচল করছে, যা ঈদের সময় দ্বিগুণ হয়ে যায়। তবে সড়কের প্রায় ৬ কিলোমিটার অংশের বেহাল অবস্থার কারণে ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করতে হচ্ছে। যানবাহন ওভারটেক করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, সড়কটি সম্পূর্ণ না হওয়ায় মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে, তবে কিছু স্থানে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ায় কাজ এগোচ্ছে না। প্রকল্পের মেয়াদ আগামী জুনে শেষ হবে, যা বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। মাত্র দুটি এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার জমির অধিগ্রহণ এখনো বাকি রয়েছে। দ্রুত সেগুলো সম্পন্ন করে সড়ক নির্মাণ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

এসএইচ