কুয়াকাটা: পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সাগরকন্যা কুয়াকাটায় নেমেছে পর্যটকদের ঢল। আর এই ভিড়ের মাঝেই সৈকতের বালুচরে গর্ত থেকে উঁকি দিয়ে বারবার দেখা দিচ্ছে লাল কাঁকড়া—যা পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গঙ্গামতি, কাউয়ার চর, মিনি সুইজারল্যান্ড ও লেম্বুর বনসহ বিভিন্ন পয়েন্টে লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ। বিশেষ করে ভাটার সময় যখন সৈকতের বিস্তৃতি বেড়ে যায়, তখন হাজার হাজার কাঁকড়া মাটির উপর ছোট ছোট বলের মতো বালু ছড়িয়ে যেন নকশা বা আলপনা তৈরি করে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় লাল কাঁকড়াগুলো যেন ঈদের ছুটিতে আসা পর্যটকদের উঁকি দিয়ে দেখছে।
সৈকতে কেউ পা রাখলেই মুহূর্তে গর্তে লুকিয়ে পড়া আর একটু নিরিবিলি পেলেই আবার বের হয়ে আসা এই লুকোচুরি দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করছে। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক তাওহীদ বলেন, “এত সুন্দরভাবে কাঁকড়াগুলোকে আগে কখনও দেখিনি। কাছে গেলেই যেভাবে লুকিয়ে পড়ে, এটা দেখতে দারুণ লাগে।
খুলনা থেকে আসা দম্পতি সামিরা রহমান ও রনি বলেন, “ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় এসে এমন প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে আমরা সত্যিই মুগ্ধ। শিশুদের জন্যও এটি দারুণ অভিজ্ঞতা।
ট্যুর গাইড আবু সালে বলেন, ঈদের সময় পর্যটক বেশি থাকে, তখন কাঁকড়াগুলোও বেশি চোখে পড়ে। বিশেষ করে ভাটার সময় এগুলো বের হয়ে আসে এবং পর্যটকদের কাছে আকর্ষণ তৈরি করে।
ইজিবাইক চালক আলম মৃধা জানান, অনেক পর্যটক এখন বিশেষভাবে কাঁকড়া দেখতে এসব পয়েন্টে যেতে চান। এতে আমাদের আয়ও কিছুটা বাড়ছে।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা) সভাপতি কেএম বাচ্চু বলেন, লাল কাঁকড়া উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পর্যটকদের উচিত এগুলোকে বিরক্ত না করা এবং তাদের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষা করা।
ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, কুয়াকাটার অন্যতম আকর্ষণ এই লাল কাঁকড়া। ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকদের কাছে এটি বাড়তি আনন্দ যোগ করছে। আমরা চাই, পর্যটন বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশও সুরক্ষিত থাকুক।
প্রকৃতির এই ছোট্ট প্রাণীগুলোর প্রাণবন্ত উপস্থিতি যেন ঈদের আনন্দকে আরও রঙিন করে তুলেছে। কুয়াকাটার বিস্তৃত সৈকত, সাগরের গর্জন আর লাল কাঁকড়ার এমন লুকোচুরি দৃশ্য পর্যটকদের দিচ্ছে এক অনন্য মাত্রা।
পিএস