পটুয়াখালীর কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকতে ভোর থেকেই ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে। অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পুণ্যলাভের আশায় সমুদ্রে পবিত্র স্নানে অংশ নেন।
সোমবার ( ২০ এপ্রিল) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি ‘অক্ষয় তৃতীয়া’ হিসেবে পরিচিত। এই তিথিকে অত্যন্ত শুভ ও পবিত্র মনে করা হয়। সেই উপলক্ষে ভোর ৫টা থেকেই আন্তর্জাতিক হরিভাবনামৃত সংঘ ও আশ্রমের উদ্যোগে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রার্থনা, মঙ্গলঘট স্থাপন, শ্রী বিষ্ণু পূজা এবং গঙ্গা মায়ের পূজা শেষে সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় সমুদ্রস্নান।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে স্নান করলে অক্ষয় পুণ্য লাভ হয়। হিন্দু ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পুরাণ মতে, এদিন ভগবান বিষ্ণুর অবতার পরশুরামের জন্ম হয়েছিল, মহাভারত রচনার সূচনাও এই তিথিতে। এছাড়া রাজা ভগীরথের মাধ্যমে গঙ্গার মর্ত্যে আগমনের ঘটনাও এই দিনের সঙ্গে জড়িত বলে মনে করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইঞ্জিনিয়ার নিহার রঞ্জন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক হরিভাবনামৃত সংঘ ও আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী শ্রী জয়দেব ঠাকুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হরপ্রিয়া দেবী ও ঋত্বিক মহারাজ ডা. রাধাস্বামী। এছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ভক্ত ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা এতে অংশ নেন এবং ভাগবত আলোচনা করেন।
প্রতিবছরের মতো এবারও হাজারো ভক্তের সমাগমে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে সৈকত এলাকা। স্নান শেষে অনেককে পরিবার নিয়ে ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও প্রার্থনায় মগ্ন থাকতে দেখা যায়।
পিরোজপুর থেকে আসা এক ভক্ত জানান, এই দিনে গঙ্গাস্নান করলে জীবনের দুঃখ-কষ্ট দূর হয় এবং সুখ-সমৃদ্ধি আসে—এমনটাই তাদের বিশ্বাস।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগত ভক্তদের সুবিধার্থে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা পাওয়া গেছে।
এম