শরীয়তপুরের জাজিরায় অবৈধভাবে আনা জ্বালানি তেল জব্দ না করে ট্যাঙ্কারসহ ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জাজিরার ডুবিসায়বর বন্দর এলাকার কাজীরহাটে কিছু ব্যবসায়ী রাতের আঁধারে বিভিন্ন স্থান থেকে ট্যাঙ্কারে করে জ্বালানি তেল এনে বাজারের মধ্যে অনিরাপদভাবে খালাস করে বিক্রি করে আসছিলেন। এতে একাধিকবার দুর্ঘটনাও ঘটেছে। গত ১৬ এপ্রিল রাতে এমনই একটি ট্যাঙ্কারে অগ্নিকাণ্ডে ছয়জন দগ্ধ হন এবং তাদের মধ্যে একজন পরে মারা যান।
এরপরও একই পদ্ধতিতে গত সোমবার রাতে একটি ট্যাঙ্কারে প্রায় ৯ হাজার লিটার জ্বালানি তেল এনে বাজারে খালাস করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানালে ঘটনাস্থলে যান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান।
পুলিশের সহযোগিতায় ট্যাঙ্কার ও চালককে আটক করা হয়। ট্যাঙ্কার চালক স্বীকারোক্তিতে জানান, তেলটি স্থানীয় এক মুদি ব্যবসায়ী আয়নাল মাদবর অবৈধভাবে এনে বিক্রি করছিলেন এবং ট্যাঙ্কারে অন্তত ৬ হাজার লিটার তেল ছিল।
তবে এ ঘটনায় অবৈধ তেল জব্দ না করে শুধু চালককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বারবার দুর্ঘটনা ঘটার পরও অবৈধভাবে জ্বালানি তেল বেচাকেনা বন্ধ হচ্ছে না। বরং কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এসব কর্মকাণ্ড আরও উৎসাহিত হচ্ছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।
অভিযুক্ত ব্যবসায়ী আয়নাল মাদবরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জ্বালানি তেল বিক্রির কোনো বৈধ অনুমোদন তার নেই।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তেল বা সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে ট্যাঙ্কার ও চালককে আটক করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তেল জব্দ না করার বিষয়ে তিনি বলেন, ট্যাঙ্কারটি নিরাপদে রাখার মতো ব্যবস্থা না থাকায় আপাতত ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।