পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি পেল রূপপুর

  • ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি  | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

ঈশ্বরদী: দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও কারিগরি জটিলতা পেরিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি মিলেছে। এর ফলে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) প্রথম ইউনিটে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ শুরুর অনুমোদন দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে বায়রা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযুক্ত করার আগে আরও দুটি অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ হলো রিঅ্যাক্টরে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন বিক্রিয়া শুরু করা। এই ধাপের আগে রিঅ্যাক্টরের বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম ও গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমনব্যবস্থার নিরাপত্তা ভালভ (পিওআরভি/পিওএসভি) নিয়ে জটিলতার কারণে এতদিন ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটির অনুমোদন আটকে ছিল। পরে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে সমস্যাটি সমাধানে কাজ করে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যবস্থাটি সফল হওয়ায় এখন পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদনের পর রিঅ্যাক্টরকে খুব কম শক্তিস্তরে চালিয়ে এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ সময় রিঅ্যাক্টরের বিভিন্ন পরামিতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটিসহ এই ‘ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ’ পর্যায়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে। এরপর শুরু হবে ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ পর্যায়। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি টারবাইন ও জেনারেটরের কার্যক্রম পরীক্ষা করা হবে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে অপারেটিং সংস্থাকে বায়রার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্সও নিতে হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আশা, সব পরীক্ষা ও অনুমোদন নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। তবে এর আগে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে কেন্দ্রটির বিভিন্ন কারিগরি ব্যবস্থা যাচাই করা হবে।

রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে যুক্ত হবে। একই সঙ্গে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

পিএস