পিপলস লিজিং

ঋণখেলাপিদের আইনজীবীদের প্রতি আদালতের ক্ষোভ

  • আদলত প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১, ০৩:৩০ পিএম
ফাইল ফটো

ঢাকা: আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ঋণখেলাপিদের আইনজীবীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আদালত। 

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে হাইকোর্টের কোম্পানি বেঞ্চের বিচারক মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চে উপস্থিত হন তারা।

এ সময় আইনজীবীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত বলেন, ‘সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করে কানাডায় পালিয়ে যাওয়া প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার এবং এসকে সুর চৌধুরী কী আকাম-কুকাম করলো, সেটা নিয়ে হাইকোর্ট বসে থাকবে না। আদালতের কি আর কোনো কাজ নেই! দুদক কী ব্যবস্থা নিলো? আমরা আদেশ দিলাম কতো আগে, আর জানুয়ারি মাসে এসে জানানো হলো, পি কে হালদার বিদেশ পালিয়ে গেছেন।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবীর কাছে আদালত জানতে চান, ‘পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের হেড অফিস কোথায়? সেখানে কম্পিউটার, চেয়ার টেবিল কি কিছু আছে? প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক, অন্য লোকজন ও পিয়ন আছে?’

শুনানিতে আরেক খেলাপির আইনজীবী ২৭ কোটি টাকা দিতে সময় চাইলে আদালত পিপলস লিজিংয়ের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ‘উনার কতো টাকা?’ আইনজীবী জানান, ‘১১৬ কোটি টাকা’। তখন আদালত বলেন, ‘রাস্তায় যে ক্লায়েন্টরা না খেয়ে আছেন তাদেরকে দেখবে কে?’

হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের তথ্য চাপা দেয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দায়িত্ব থেকে নির্বাহী পরিচালক শাহ আলমকে সরিয়ে দেয়া হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক অফিসিয়াল আদেশে বিষয়টি জানানো হয়।

তবে একটি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে এখনও বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফিন্যানসিয়াল স্টাবিলিটি ডিপার্টমেন্ট, ডিপোজিট ইন্সুরেন্স ডিপার্টমেন্ট এবং স্পেশাল স্টাডিজ সেলের নির্বাহী পরিচালক।

এদিকে, প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মাথায় নিয়ে কানাডায় পলাতক আছেন ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের সাবেক পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার)। তাকে দেশে ফেরাতে নানা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

সোনালীনিউজ/এমএইচ