ফাঁসির রায়ে উল্লসিত নারায়ণগঞ্জবাসী

  • নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০১৭, ০১:২১ পিএম

নারায়ণগঞ্জ : রায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলায় নূর হোসেনসহ ২৬ জনের ফাঁসি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজন, তাদের আইজনীবীরা ও এলাকাবাসী। রায় ঘোষণার পরপরই বিজয় মিছিল বের করে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা।

চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় দিতে সোমবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় আদালতের এসলাসে বসেন বিচারক এনায়েত হোসেন। এ সময় আদালতের কাঠগড়ায় ২৩ আসামিকে হাজির করা হয়। ঘড়ির কাঁটা যখন ১০টা ৬ মিনিট ঠিক তখনই ২৬ জনের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আদালত প্রাঙ্গণে আনন্দ বিজয় মিছিল বের করে বাদীপক্ষের আইজীবীরা। তাদের সঙ্গে অংশ নেন নিহতদের অনেক স্বজন ও এলাকাবাসী।

রায়ের পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, তারা যে অপরাধ করেছিল সেজন্য আমরা সব আসামির মৃত্যুদণ্ড আশা করেছিলাম। কিন্তু ২৬ জনের ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে। সবাইকে ফাঁসি দিলে আমরা আরও খুশি হতাম। তারপরেও যে রায় দেয়া হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট।’ এ সময় তিনি দ্রুত রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় নজরুলের শ্বশুর শহীদ চেয়ারম্যান বলেন, আমরা এই রায়ে আংশিক সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত অর্থদাতা ও পরিকল্পনাকারী চারজনকে মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এরা যদি আসামি থাকতো তাহলে এদেরও ফাঁসি হতো। তাহলেই আমরা পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট হতাম।

খুন হওয়া আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় পাল বলেন, স্বজনদের হারিয়ে যে ব্যথা বুকে চেপে রেখেছিলাম আজ কিছুটা তা লাঘব হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ যেন এমন হত্যাকাণ্ড ঘটানোর চিন্তা করতে না পারে সেজন্য তাদের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি করছি।

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর চাঞ্চল্যকর সাত খুনের রায়ে উল্লসিত নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ। সাত খুনে জড়িতদের বিরুদ্ধে রায়ের দ্রুত কার্যকর চায় তারা। সোমবার সকালে রায় হবে এমন সংবাদে আদালত চত্বরের সামনে অবস্থান নেয় হাজারো মানুষ। রায়ের সংবাদে উল্লাস প্রকাশ করেন তারা।

আবু বকর নামে এক আইনজীবী বলেন, সাত খুনের রায় হওয়াটা নারায়ণগঞ্জ আদালতের আইনজীবীদের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। সত্যের জয় হয়, এই রায় সেটাই প্রমাণ করে। এসময় পাশ দিয়ে আইনজীবীদের স্লোগান শোনা যায়, ‘এই মাত্র খবর এলো নুর হোসেনের ফাঁসি হলো।’

‘পাশেই শোনা যায়, নজরুল ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না। ইব্রাহিমের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না।’

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা থানাধীন এলাকা থেকে আগত কায়সার আলী জানান, সাতজন মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যার পর অনেকে পালিয়েছে। নূর হোসেনের মতো লোকও পালিয়েছিল। কিন্তু সত্যের জয় চিরন্তন। সেটার প্রমাণ আজকের এ রায়। তবে যতো দ্রুত সম্ভব এ রায়ের কার্যকর চান তিনি।

নিহত চন্দন বাবুর গাড়িচালক ইব্রাহিমের ছেলে দশম শ্রেণির ছাত্র রনি জানান, বাবার মৃত্যুর পরে দিন অনেক খারাপ গেছে। অনেক দিন নিরবে কেঁদেছি। শুনতে হয়েছে হত্যাকারীদের কিছুই হবে না। আজ আদালত যে রায় দিয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। বাবার হত্যাকারীদের দ্রুত শাস্তির নিশ্চিতের জন্য রায় কার্যকর চান বাবা হারা সন্তান।

মুদি ব্যবসায়ী, ছাত্র শিক্ষক, আইনজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে তুষ্টির হাসি দেখা গেছে। রায়ের পর কিংবা আগে আদালত চত্বরে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী ও আত্মীয়-স্বজনদের দেখা যায়নি। আলোচিত সাত খুন মামলায় সোমবার সকাল ১০টায় ২৬ জনের ফাঁসি ও অন্য ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির রায় দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের খান সাহেব ওসমানী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন।

পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় দুটি মামলা হয়। একটি মামলার বাদী নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। অপর মামলার বাদী নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি।

দুটি মামলার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এতে দুটি মামলায় সাক্ষী করা হয় ১২৭ জন করে। 

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এমটিআই