ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় আদালত পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র নিয়ে বাদীপক্ষের আপত্তি শুনে পুলিশকে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম বৃহস্পতিবার মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের নারাজি আবেদন মঞ্জুর করেন।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান জানিয়েছেন, আদালত সিআইডিকে ২০ জানুয়ারির মধ্যে পুনঃতদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।
হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। তবে অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ। তারা বলেছে, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীদের সম্পর্ক ও হত্যাকারী শুটারদের ভূমিকা ঠিকভাবে উল্লেখ হয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় এবং তিন দিন পর ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যু হয়।
ডিবি পুলিশের তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ পাঁচজন পলাতক। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই হাদিকে হত্যা করা হয়েছে।
তদন্তকারী পুলিশ জানিয়েছে, আসামিরা হাদির নির্বাচনি প্রচারে অনুপ্রবেশ করে ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। তবে মামলার পুনঃতদন্ত নিশ্চিত হলে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এসএইচ