নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে না

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২২, ০৬:৫৪ পিএম

ঢাকা: বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক যে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে দিয়েছিল তা চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বেসরকারি ব্যাংক মালিক সংগঠন বিএবি ও এমডিদের সংগঠন এবিবির আবেদনের পর গভর্নর তা বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করে সাংবাদিকদের একথা জানিয়েছেন বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস’র (বিএবি) ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স অনুষ্ঠিত বৈঠকে গভর্নর ফজলে কবির ছাড়াও ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালকরা এবং বিএবি ও এবিবির প্রেসিডেন্ট, এফসিসিআই প্রেসিডেন্ট ও বেঙ্গল ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিনসহ বিএবি ও এবিবির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২০ জানুয়ারি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা নির্ধারণ করে এবং আমানত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার অজুহাতে চাকরিচ্যুত না করা, যথাসময়ে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়ে একটি সার্কুলার জারী করেছে। ওই সার্কুলারের বিষয়ে গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএবি ও এবিবি নেতারা।

বিএবির চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যে সার্কুলার দিয়েছে তাতে আমাদের বা ব্যাংকের কি উপকার হতে পারে। সার্কুলারটি চাপিয়ে দিলে দেশের আর্থ-সামাজিক কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে কি-না এসব বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, গভর্নর আমাদের সব কথা শুনে একটি সুন্দর সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। সার্কুলারটিকে কীভাবে বাস্তবমুখী, ফলপ্রসূ করা যায় আমরা সেটারই চেষ্টা করবো। আমরা গভর্নরকে অনুরোধ করেছি হঠাৎ করে এটা মার্চে বাস্তবায়ন করতে গেলে এলোমেলো হতে পারে। কাজেই আরেকটু সময় নিয়ে আমাদের সিইও যারা আছেন, তাদের সঙ্গে বসে আরও বিশদ আলোচনা করতে। যাদের বেতন বাড়ানোর কথা তারাও যেন ভালো থাকে, ব্যাংকও যেন ভালো থাকে। সমাজ যেন ভালো থাকে। রাষ্ট্র যেন ভালো থাকে। বেসরকারি ব্যাংক যেন ভালো থাকে। তাই সার্কুলারটি বাস্তবায়ন একটু দীর্ঘায়িত হতে পারে।

নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যে সার্কুলারটি দিয়েছে তাতে ব্যাংক, সমাজ ও কম বেতনের কর্মীরা কতটুকু উপকৃত হবে সেটাই গভর্নরকে জানিয়েছি। আমরা সবকিছু করছি মানুষের জন্য। সার্কুলারে আমাদের কিছু বিষয়ে বোঝার ভুল আছে, সেটা দুর করতে হবে। তার জন্য কয়েক মাস সময় লাগবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার কার্যকর করতে চাই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন কোনো সার্কুলার দেয় সেটা অবশ্যই দেশের স্বার্থে দেয়। দেশের অর্থনীতির স্বার্থে দেয়। তো সেটা কীভাবে কার্যকর করা যায়, যাতে হঠাৎ করে ব্যাংকগুলোতে কোনো লোড না পড়ে, ক্ষতি না হয়। সেটারই চেষ্টা করবো আমরা।

তিনি আরও বলেন, আমরা বেতন নির্ধারণ নিয়ে পুনআলোচনার দাবি জানিয়েছি। বিবেচনা নয়, আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে সহজ কীভাবে করা যায় সে দাবি জানানো হয়েছে। ওই সার্কুলারে যে নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলো স্পষ্ট করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যাতে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা বুঝতে পারেন। সাংবাদিকরা যেন বুঝতে পারেন।   

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে ছিল না কোনো অদক্ষ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিতে হবে। এটা পরীক্ষা নিরীক্ষা করেই দেওয়া হবে। এতে আামদের কোনো আপত্তি নাই। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় একজন লোক দক্ষ হলে তার পদোন্নতি হবেই। কাজেই আমাদের বোঝার ভুল আছে, হয়তো কোথাও লেখার কোনো ভুল থাকতে পারে। আই ডোন্ট নো।

সার্কুলারের কোথায় কোথায় ভুল রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, বেতন ভাড়ানোর কথা বললেন, পদোন্নতির কথা বললেন। কাদেরকে টাকা বাড়াবো, কত বাড়াবো, কোন গ্রেডে নিয়ে যাবো। এখন একজন লোক ধরেন ২৫ হাজার টাকা পায় বা ১৮ হাজার টাকা, তাকে ২৪ হাজার টাকায় নিয়ে গেলাম। তো যে ৪০ হাজার টাকা পায় তাকে তো ৬০ হাজার টাকায় নিতে হবে। এসব জিনিস একটা সামগ্রিকভাবে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। আমি মনে করি বাংলাদেশ এসব বিষয় আলোচনা করে হয়তো আমাদের আবার ডাকবে। আলোচনা করবো।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিএবি ও এবিবি চেয়ারম্যানসহ প্রতিনিধিদল গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করে সার্কুলারের  বিভিন্ন বিষয়ে কিছু অস্পষ্ট আছে বলা হলে বাংলাদেশ সার্কুলার পুনরায় পড়ে ব্যাখ্যা দেন এবং প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের জবাবের পর অ্যাসোসিয়েশন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একমত পোষণ করেন। আলোচ্য সার্কুলারটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরও কিছু সময় দেওয়ার অনুরোধ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখবেন বলে জানিয়েছে।

এদিকে বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যখনই সাধারণ কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে তখনই ব্যাংক মালিকরা বিভিন্ন অজুহাত দেখায়। অথচ আমাদের শ্রমেই ব্যাংক শতশত কোটি টাকা মুনাফা করে।

সোনালীনিউজ/এন