ইরানে নতুন করে ট্রাম্পের সামরিক হামলা স্থগিত ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে স্বস্তি ফিরেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত পাওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলার থেকে কমে ১০৯ ডলারে নেমে আসে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে সোমবার জুড়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যায়। সপ্তাহান্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, “সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।” তার ওই মন্তব্যের পর তেলের বাজারে দাম বাড়তে শুরু করে।
বিশ্ববাজারে উত্তেজনার অন্যতম কারণ ছিল হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকট। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ কার্যত বন্ধ করে দেয়। ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। তাই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে সামান্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক ইঙ্গিতও তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলছে।
সোমবার সকালে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, “ইরানকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নইলে তাদের জন্য কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।” এই বক্তব্যের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ে।
তবে পরে পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। ইরানের একটি সংবাদ সংস্থা জানায়, আলোচনার স্বার্থে দেশটির অপরিশোধিত তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তেলের বাজারে চাপ কমে আসে।
এদিকে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন।
পরে ট্রাম্প জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে মঙ্গলবারের পরিকল্পিত হামলা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে এমন একটি চুক্তির আলোচনা চলছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “গ্রহণযোগ্য” হতে পারে।
তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র খুব অল্প সময়ের নোটিশেই বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত থাকবে।
এম