সাত কলেজকে নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার চার মাস পর অবশেষে শুরু হয়েছে শ্রেণি কার্যক্রম। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি আন্দোলনের কারণে দীর্ঘ এক বছরের সেশনজটে পড়া সাত কলেজে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে পরিচিতি সভা ও ওরিয়েন্টেশন। এর মধ্য দিয়ে ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার পথ খুলে গেল।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সাত কলেজের প্রতিটি কলেজের সব বিভাগে একযোগে ক্লাস শুরু হয়। ঢাকা কলেজসহ অন্যান্য কলেজে নিজ নিজ বিভাগে ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে অংশ নেন নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি সাত কলেজ নিয়ে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা করে পরিচিতি সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুটিন, সিলেবাস ও একাডেমিক কার্যক্রমের বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাসির আহমেদ বলেন, আজ আমাদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম ছিল। প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা ভালো লেগেছে। সবাই মিলে পরিচয় হয়েছে, পরিবেশও ছিল স্বাভাবিক ও ইতিবাচক। অনেক অনিশ্চয়তার পর অবশেষে ক্লাস শুরু হওয়াটাই সবচেয়ে স্বস্তির। আজ ক্লাসে আমাদের রুটিন ও সিলেবাস বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কবে থেকে নিয়মিত ক্লাস চলবে, সেটাও জানানো হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আগের মতো ক্ষোভের জায়গা এখন আর নেই। কিছু বিষয়ে আগে আমাদের দাবি ও শিক্ষকদের অবস্থানের মধ্যে অমিল ছিল। তবে এখন আমরা সবাই সামনে এগোতে চাই। শিক্ষকরা অবশ্যই তাদের জায়গায় সম্মানিত থাকবেন, আর শিক্ষার্থী হিসেবে আমরাও তাদের সম্মান জানাই। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক আগেও ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অন্তর্বর্তী প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, শুরুর দিকে কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে ঘাটতি ছিল। তবে এখন একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক ধারায় ফিরছে। আমরা আশা করছি সামনে আর বড় কোনো জটিলতা হবে না।
প্রথম বর্ষের পরীক্ষার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০২৩–২০২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হয়েছিল। সেই হিসাবে বর্তমান শিক্ষাবর্ষে একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রায় আট মাস সময় হাতে রয়েছে। নিয়মিত ক্লাস চললে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সিলেবাস শেষ করে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সরকারকে রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে পৃথক করে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নামে একটি নতুন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের সুপারিশ করে। এই সাত কলেজ হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, মিরপুর বাংলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ।
পরবর্তীতে সরকার নীতিগতভাবে সাত সরকারি কলেজকে একীভূত করে একটি স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে সেই সিদ্ধান্তের চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এসএইচ