শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ

জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ-আহতদের সন্তানদের বিনামূল্যে শিক্ষা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী শিক্ষার্থী যোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করাও সরকারের অগ্রাধিকার।

সভায় ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুতি এবং দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা উন্নয়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি দ্রুত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শিক্ষা খাত আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু, বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা এবং সবার জন্য কারিগরি শিক্ষার মতো উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি। এছাড়া ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচিও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও কেডস বিতরণ, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং হাফেজে কোরআনদের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেন শিক্ষামন্ত্রী।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও জুতা বিতরণ করা হবে। পরবর্তীতে এই সুবিধা প্রাথমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

এছাড়া এক বছরের মধ্যে প্রাথমিক থেকে কলেজ পর্যায় পর্যন্ত সব শিক্ষকের হাতে ট্যাব সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক প্রশিক্ষণের জট নিরসনে একাধিক শিফটে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর নির্দেশও দেওয়া হয়, যাতে দ্রুত সব শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা যায়।

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উপজেলা পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজন এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিতর্ক ক্লাব গঠন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও মানবিক করা সম্ভব হবে।

এম