আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যবইয়ের চাহিদায় মাঠ পর্যায় থেকে অতিরিক্ত প্রায় এক কোটি বইয়ের তথ্য আসার পর নড়েচড়ে বসেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবির যৌথ ৩৪টি টিম জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গিয়ে চাহিদা যাচাই করলে প্রকৃত সংখ্যায় বড় ধরনের গড়মিল ধরা পড়ে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ১৫ ও ১৬ এপ্রিল দুই দিনের এই যাচাই কার্যক্রমে দেখা যায়, প্রায় ১১০ উপজেলা থেকে দেওয়া চাহিদা বাস্তবের তুলনায় অতিরিক্ত ছিল। মাঠ পর্যায়ের যাচাই শেষে প্রায় ৪০ লাখ বইয়ের চাহিদা কমে আসে। কিছু উপজেলায় গত বছরের তুলনায় ১৭৯ শতাংশ পর্যন্ত বেশি এবং কোথাও ৪৭ শতাংশ বেশি চাহিদা দেওয়ার নজির পাওয়া গেছে।
চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরে ইবতেদায়িসহ মোট পাঠ্যবই ছিল ২১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৯টি। কিন্তু ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য শুরুতে অতিরিক্ত প্রায় এক কোটি বইয়ের চাহিদা জমা পড়ে।
এনসিটিবি বলছে, দেশের ৫৮৩টি বিতরণ কেন্দ্রের মধ্যে এখনো সব তথ্য যাচাই সম্পন্ন হয়নি। বাকি কেন্দ্রগুলোকে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে অনলাইনে সঠিক তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঠিক তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে সতর্ক করে।
এনসিটিবির সচিব প্রফেসর মো. সাহতাব উদ্দিন উদ্দিন বলেন, মাঠ পর্যায়ের যাচাইয়ে দেখা গেছে প্রায় ৪০ লাখ বইয়ের অতিরিক্ত চাহিদা ছিল। তবে চূড়ান্ত হিসাব আরও কিছুটা কমতে পারে।
তিনি আরও জানান, পুরো তথ্য যাচাই শেষে মঙ্গলবারের মধ্যে চূড়ান্ত চাহিদা নির্ধারণ করা হবে।
এনসিটিবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, বিনামূল্যে পাঠ্যবই ছাপানোকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই অতিরিক্ত চাহিদা ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এবারের যাচাই কার্যক্রমে সেই অনিয়ম আরও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
এসএইচ