অনুমোদনের তোয়াক্কা না করেই রাজধানী ঢাকায় দ্রুত বাড়ছে স্পা সেন্টারের সংখ্যা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ঢাকাতেই শতাধিক স্পা সেন্টার সক্রিয় রয়েছে। ম্যাসাজ ও থেরাপির নামে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশে নিয়মিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্দিষ্ট সময় ও দামের বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের ম্যাসাজের নামে এসব স্পা সেন্টারে আপত্তিকর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য মদ, বিয়ার ও সিসার মতো নিষিদ্ধ সামগ্রীও সরবরাহ করা হয়। আরও ভয়াবহ অভিযোগ হলো— কিছু স্পা সেন্টারে গোপন ক্যামেরা বসিয়ে ব্যক্তিগত মুহূর্ত রেকর্ড করে পরে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সামাজিক মর্যাদার ভয়ে ভুক্তভোগীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুলিশের দ্বারস্থ না হয়ে বাধ্য হয়ে আপস করছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিকবার অভিযান চালালেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এই অবৈধ বাণিজ্য। সিআইডি, র্যাব, থানা পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন সময়ে স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
উঠতি বয়সী কিশোরী ও তরুণীদের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে উঠতি বয়সী কিশোরী ও তরুণীদের ঢাকায় এনে এসব স্পা সেন্টারে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হচ্ছে। এ কাজে সক্রিয় রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ নারী পাচারকারী চক্র।
গত ১০ ডিসেম্বর বনানীতে একটি স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ছয় সদস্যের একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানে সাতজন অপ্রাপ্তবয়স্কসহ মোট ১২ জন নারীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অসামাজিক কাজে বাধ্য করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গুলশান ও আশপাশের এলাকায় একাধিক অভিযানে থানা পুলিশ ও র্যাব অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। এসব অভিযানে স্পা সেন্টারের আড়ালে সংঘটিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নানা প্রমাণ পাওয়া যায়।
বুকিং চলে হোয়াটসঅ্যাপে, ঠিকানা গোপন
এসব স্পা সেন্টারের বড় একটি অংশের কোনো দৃশ্যমান সাইনবোর্ড বা ঠিকানা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দেওয়া হয়। আগ্রহী গ্রাহক ফোন করলে নির্দিষ্ট সময়ের আগে ঠিকানা জানানো হয়। বুকিংয়ের পর অগ্রিম অর্থ পরিশোধ বাধ্যতামূলক।
প্রতিটি স্পা সেন্টারে সিসিটিভি ক্যামেরা ও আলাদা নিরাপত্তাকর্মী রাখা হলেও সেগুলো মূলত বাইরের নজর এড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “স্পা সেন্টারের আড়ালে অবৈধ বা অনৈতিক কার্যক্রমের তথ্য পেলেই পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে। এটি একটি চলমান কার্যক্রম।”
গুলশান বিভাগের ডিসি রওনক আলম জানান, স্পার নামে কোনো ধরনের অনৈতিক কাজ যাতে পরিচালিত না হয়, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি রাখা হচ্ছে।
সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব বলেন, “কোনো নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বা আটকে রেখে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হলে তা মানব পাচারের আওতায় পড়ে। এ বিষয়ে আমাদের টিম সবসময় তৎপর এবং অভিযোগ পেলেই দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
এম