হরমুজে আটকে পড়া হাজার হাজার নাবিকের করুণ আর্তনাদ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ০৯:২২ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যার ফলে বিপাকে পড়েছেন হাজারো নাবিক। আন্তর্জাতিক ট্যাংকার মালিকদের সংগঠন ইন্টারট্যাংকো জানিয়েছে, বর্তমানে ১০৫টিরও বেশি তেলবাহী জাহাজে প্রায় ২,৪০০ নাবিক আটকা পড়ে আছেন। সীমিত খাবার, পানির সংকট এবং নিরাপত্তাহীনতায় তারা দিন কাটাচ্ছেন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে।

আটকে পড়া নাবিকদের একজন পরিচয় গোপন রেখে বলেন, তারা যেন ভাসমান কারাগারে বন্দি। তার ভাষায়, “আমরা শুধু বাড়ি ফিরতে চাই, কিন্তু পরিস্থিতি আমাদের সেই সুযোগ দিচ্ছে না।”

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। ফলে এই নৌপথ বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে।

বিবিসির ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে টিম উইকিংস জানান, ইরানের উপকূলের কাছে বহু জাহাজ দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকায় নাবিকদের মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়ছে। খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—এসব মৌলিক বিষয় এখন বড় সংকটে পরিণত হয়েছে।

আরেক নাবিক এবিসি নিউজকে বলেন, “সংঘাত শুরু হওয়ার প্রায় ৫০ দিন পেরিয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় ভয় অনিশ্চয়তা—আমরা আদৌ জীবিত ফিরে যেতে পারব কিনা জানি না।” তিনি আরও জানান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং সামরিক হামলার আশঙ্কা তাদের প্রতিনিয়ত আতঙ্কে রাখছে।

দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরেকজন নাবিক জানান, তিনি ইতোমধ্যে চাকরি ছাড়ার নোটিশ দিয়েছেন এবং এই রুটে আর যাত্রা করতে চান না।

এদিকে ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশন (আইটিএফ) জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে তারা প্রায় ১,৯০০টি সহায়তার আবেদন পেয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ ছিল দেশে ফেরার অনুরোধ। সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ৪৫০ জন নাবিককে নিরাপদে ফিরতে সহায়তা করেছে।

অন্যদিকে, উত্তেজনা প্রশমনে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া এক প্রস্তাবে তারা হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর কথা বলেছে, তবে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা পরবর্তী ধাপে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এই প্রস্তাব যুদ্ধবিরতি ও নৌপথ সচল করার একটি সম্ভাব্য পথ তৈরি করতে পারে।

এম