ঢাকা: কাশ্মীরের শাক্সগাম উপত্যকা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি নাকচ করে দিয়েছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, শাক্সগাম চীনের নিজস্ব ভূখণ্ড।
সোমবার (১১ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) এক প্রশ্নের জবাবে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, শাক্সগাম উপত্যকায় অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে ভারতের সমালোচনা ভিত্তিহীন। নিজের ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর পূর্ণ অধিকার চীনের রয়েছে।
[270291]
মাও নিং স্পষ্টভাবে বলেন, ‘যে এলাকাটির কথা বলা হচ্ছে, সেটি চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ’।
এর আগে গত শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দাবি করেছিলেন, শাক্সগাম উপত্যকা ভারতের ভূখণ্ড এবং নয়াদিল্লি নিজের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখে। তিনি আরও বলেন, ভারত ১৯৬৩ সালের তথাকথিত ‘চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি’ কখনোই মেনে নেয়নি এবং এই চুক্তিকে অবৈধ ও বাতিল বলে গণ্য করে।
ভারতীয় মুখপাত্রের দাবি, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শাক্সগাম উপত্যকায় স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের যেকোনো চীনা প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে নয়াদিল্লি নিয়মিত প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। ভারত একই সঙ্গে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরকেও (CPEC) স্বীকৃতি দেয় না।
ভারতীয় এই অবস্থানের জবাবে মাও নিং বলেন, গত শতকের ষাটের দশকে চীন ও পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি সই করেছিল এবং দুই দেশ তাদের সীমান্ত চিহ্নিত করেছে। দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের এই ধরনের চুক্তির পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সিপেক একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রকল্প, যার লক্ষ্য স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। এই প্রকল্প বা সীমান্ত চুক্তি—কোনোটিই কাশ্মীর ইস্যুতে চীনের দীর্ঘদিনের অবস্থানে কোনো প্রভাব ফেলবে না’।
উল্লেখ্য, ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে সীমান্ত বিরোধ চলে আসছে। তবে ২০২৪ সালে হিমালয় সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা কমাতে দুই দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছায়। ২০২০ সালে ওই এলাকায় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন এবং চীনের ৪ জন সেনা নিহত হয়েছিলেন।
২০২৪ সালের চুক্তির পর সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করা এবং বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশ সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। তবে অরুণাচল প্রদেশসহ (যাকে চীন ‘জাংনান’ বা দক্ষিণ তিব্বত বলে দাবি করে) বিভিন্ন অমীমাংসিত সীমান্ত নিয়ে দুই পরাশক্তির মধ্যে এখনো উত্তেজনা রয়ে গেছে। অরুণাচলের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তনের চীনা পদক্ষেপের বিরুদ্ধেও নয়াদিল্লি সব সময় কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
সূত্র: ডন উর্দু
এসআই