ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে মমতা

‘বাংলাদেশে কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? সবটাই জানি’

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০৭:৩৯ এএম

পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার ধর্মতলায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় মমতা দাবি করেছেন, বাংলাদেশের একটি হাই-প্রোফাইল হত্যা মামলার আসামিকে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বয়ং ফোন করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটার পর এটিই ছিল মমতার প্রথম কোনো রাজনৈতিক জনসভা। আর প্রথম সভাতেই ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (নাম উল্লেখ না করে) বিরুদ্ধে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিবেশী দেশের অপরাধীকে আড়াল করার মতো গুরুতর অভিযোগ তুললেন তিনি।

জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? সবটাই জানি। আজ গভর্নমেন্ট পরিবর্তন হলেও মনে রাখবেন, আমার হৃদয়টাই একটা কথাভান্ডার, তথ্যভান্ডার, সত্যভান্ডার।

তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছিল। পরবর্তীতে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (STF) তাকে গ্রেপ্তার করে। এই খবর জানাজানি হওয়ার পর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে মমতাকে ফোন করেছিলেন।

মমতার ভাষ্যমতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে বলেছিলেন, “আপ থোড়া আপকে বেঙ্গল পুলিশকো বোল দো, ইয়ে বাত বাহার নেহি কেহনে কে লিয়ে। ইয়ে দেশ কে লিয়ে হ্যায়।”

(অর্থাৎ, আপনি একটু আপনার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে বলে দিন, যাতে এই কথা তারা বাইরে প্রকাশ না করে। এটা দেশের স্বার্থে করা হয়েছে।)

জনসভায় উপস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা এ সময় সেই খুনি ও নেপথ্যের কুশীলবদের নাম প্রকাশের জন্য স্লোগান দিতে থাকলে মমতা তা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশে যাতে কোনো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ‘রেভোল্যুশন’ তৈরি না হয়, সেজন্যই তিনি ভদ্রতা বজায় রেখে নামগুলো মুখে আনছেন না। তবে তার এই মন্তব্য দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।

বিজেপি সরকারের অধীনে এনআইএ, ইডি এবং সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বিরোধীদের ওপর রাজনৈতিক হেনস্তার অভিযোগ তোলেন মমতা। তিনি দাবি করেন, তার শাসনামলে রাজ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা এসটিএফ কখনো এভাবে অন্যায়ভাবে ব্যবহৃত হয়নি, বরং তারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে অপরাধ দমন করেছে, যার অন্যতম প্রমাণ বাংলাদেশের এই শীর্ষ খুনিকে গ্রেপ্তার করা।

নির্বাচনে পরাজয়ের পর ব্যাকফুটে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘তথ্যভান্ডার’ খোলার হুঁশিয়ারি দিল্লির ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একই সাথে, বাংলাদেশের কোন হত্যাকাণ্ডের কথা এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তা নিয়েও দুই দেশের গোয়েন্দা ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়েছে।

এম