‘সময় ঘনিয়ে আসছে’, ইরানকে ‘উড়িয়ে দেয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ১, ২০২৬, ১০:০০ এএম

ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে দেশটিকে ‘উড়িয়ে দেওয়া হতে পারে’ বলে  হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানকে ধ্বংস অথবা চুক্তি করা—দুই পথের একটিতে শিগগিরই যেতে হবে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রয়োজনে ইরানকে ‘উড়িয়ে দিতে’ হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো আপনাকে তাদের উড়িয়ে দিতে হবে। আপনাকেই সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা তাদের উড়িয়ে দিই, অথবা আমরা একটি চুক্তি করি—সময় কিন্তু এসে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো একটি উপায়ে খুব শিগগিরই এর সমাপ্তি হবে।’

এদিকে বার্তাসংস্থা আনাদোলুর পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে গত কয়েক দিনে তেল পরিবহন ঐতিহাসিক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

হিস্পানিক হেরিটেজ মাস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ওপর আমাদের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আসলে গত তিন দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তেল বের হয়েছে।’

ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, যুদ্ধ শিগগিরই জয় করা হবে। তিনি বলেন, ‘যেকোনো একটি উপায়ে আমরা খুব দ্রুত এই যুদ্ধে জয়ী হতে যাচ্ছি।’

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। জবাবে তেহরানও ইসরায়েল ও অঞ্চলটিতে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালায়। পরে এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।

এরপর জুনে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। তবে কৌশলগত এই স সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সেটির বাস্তবায়ন থমকে যায়।

এম