হরমুজের সাবমেরিন ক্যাবলে হামলার হুমকি ইরানের, বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট বিপর্যয়ের শঙ্কা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা সমুদ্র যোগাযোগ ক্যাবলকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। গুরুত্বপূর্ণ এসব ক্যাবলে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্টারনেট ও ডেটা যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলা ও হুমকি বন্ধের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে কাতার।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ডেটা যোগাযোগ ক্যাবল বিস্তৃত রয়েছে। এসব ক্যাবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ও বাণিজ্যিক তথ্য আদান-প্রদানের বড় একটি অংশ পরিচালিত হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের স্যাক্রেড ডিফেন্স জাদুঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় নতুন লক্ষ্যবস্তু ও অস্ত্রের বিষয়ে সতর্কবার্তা দেন মোহেব্বি। তবে ক্যাবলগুলোতে হামলা হলে ঠিক কোন কোন দেশের যোগাযোগব্যবস্থা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে উপসাগরীয় অঞ্চল

সমুদ্রের তলদেশে থাকা যোগাযোগ ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের তুলনায় ইরানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে কাতার।

মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম আল-হাশমি বলেন, এসব ক্যাবলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে আঞ্চলিক দেশগুলোর যোগাযোগ ও ডিজিটাল সেবায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে আন্তরিকভাবে চিন্তা করলে বোঝা যাবে, এ ধরনের হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কারা। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের চেয়ে ইরানসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব বেশি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কাতার একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে হামলা ও হুমকি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির মতে, সামরিক উত্তেজনা বাড়লে শুধু যোগাযোগ অবকাঠামো নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক সেবাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

 ইন্টারনেটের পাশাপাশি পানির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ

হরমুজ প্রণালি উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সেচ, লবণ উৎপাদন ও মৎস্য আহরণসহ নানা কার্যক্রম এ জলপথের সঙ্গে সম্পর্কিত। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সতর্ক করেছেন, এখানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলে পানির নিরাপত্তাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবমেরিন ফাইবার-অপটিক ক্যাবল আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগের অন্যতম প্রধান অবকাঠামো। এসব ক্যাবলের মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে বিপুল পরিমাণ তথ্য, আর্থিক লেনদেন ও বাণিজ্যিক ডেটা আদান-প্রদান হয়। ফলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ রুট ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিকল্প সংযোগের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়া, সংযোগে বিলম্ব কিংবা নির্দিষ্ট ডিজিটাল সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ডেটা সেন্টারেও হামলার আশঙ্কা

এর আগে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু হলে এ অঞ্চলের সাবমেরিন ক্যাবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো হামলার লক্ষ্য হতে পারে।

এদিকে, গত মার্চের শুরুর দিকে ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ক্লাউড সেবায় বিঘ্ন ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

টেলিযোগাযোগবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে ডেটা পরিবহনের বড় অংশ লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ফাইবার-অপটিক ক্যাবলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগপথে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে আন্তর্জাতিক ডেটা যোগাযোগের স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।

এম