লিফট ব্যবহারে ছোট ভুলেই বড় বিপদ, যে সতর্কতাগুলো জরুরি

  • লাইফস্টাইল ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৯:১৩ এএম

দৈনন্দিন জীবনে দ্রুত এক তলা থেকে অন্য তলায় যেতে লিফট এখন প্রায় অপরিহার্য। অফিস, শপিংমল, হাসপাতাল কিংবা আবাসিক ভবন—বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত লিফট ব্যবহার করতে হয়। তবে সামান্য অসতর্কতা কখনো কখনো এই সুবিধাকেই বড় ঝুঁকিতে পরিণত করতে পারে। তাই লিফটে ওঠার আগে এবং ভেতরে থাকা অবস্থায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

লিফটে ওঠার সময় প্রথমেই নজর দিতে হবে দরজার দিকে। স্বয়ংক্রিয় দরজা বন্ধ হওয়ার সময় সাধারণত সেন্সর কোনো ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্ত করলে দরজা বন্ধ হওয়া থেকে বিরত রাখে। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটি বা সেন্সরের সমস্যায় এ ব্যবস্থা সব সময় ঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে। দরজার অস্বাভাবিক আচরণ চোখে পড়লে লিফটে না ওঠাই নিরাপদ। প্রয়োজনে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতে হবে।

লিফটে ওঠার পর জরুরি ব্যবস্থাগুলোর অবস্থান জেনে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। বেশির ভাগ লিফটে ইমার্জেন্সি অ্যালার্ম, কল বাটন বা যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকে। কোনো কারণে লিফট আটকে গেলে কিংবা ভেতরে অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে এসব ব্যবস্থাই সাহায্য চাইতে কাজে আসে। তাই নিয়মিত লিফট ব্যবহার করলেও জরুরি বাটনগুলো কোথায় রয়েছে, তা আগে থেকেই দেখে রাখা ভালো।

তবে ভবনে আগুন লাগলে লিফট ব্যবহার করা উচিত নয়। আগুনের তাপ, ধোঁয়া বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে লিফটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। ফলে আগুনের সময় ভবন থেকে বের হওয়ার জন্য লিফটের পরিবর্তে নির্ধারিত জরুরি সিঁড়ি ব্যবহার করতে হবে। ভূমিকম্প বা ভবনের কাঠামোগত কোনো বড় ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রেও লিফট এড়িয়ে চলা নিরাপদ।

লিফট চলার সময় হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকতে হবে। দরজা জোর করে খোলার চেষ্টা করা বা নিজের উদ্যোগে লিফট থেকে বের হওয়ার চেষ্টা বিপজ্জনক হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে লিফটের জরুরি কল বাটন ব্যবহার করে নিরাপত্তাকর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

লিফটে আটকে পড়লে দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা না করে সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে।

লিফট ব্যবহারের সময় সতর্কতা ও জরুরি নিয়মগুলো জানা থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। কয়েক সেকেন্ডের সচেতনতা কখনো কখনো বড় ধরনের বিপদ এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এম