স্ট্রোক সাধারণত হঠাৎ ঘটে বলে মনে হলেও, এর পেছনে শরীরের নিজস্ব কিছু সতর্ক সংকেত থাকে। অনেক সময় ঘটনার এক মাস বা তারও আগে থেকে শরীর এই সংকেত দিতে শুরু করে। সময়মতো এসব লক্ষণ বুঝতে পারলে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব।
চিকিৎসকদের মতে, স্ট্রোকের আগে শরীরের নানা অংশে পরিবর্তন দেখা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ মাথা ঘোরা এবং ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা। হাঁটার সময় হোঁচট খাওয়া বা শরীরের নিয়ন্ত্রণ ঠিক রাখতে না পারা। চোখে ঝাপসা দেখা কিংবা কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ শোনা।
এছাড়া বারবার মাথাব্যথা হওয়া, বিশেষ করে মাথার এক পাশে এই ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক সময় দেখা দেয় অস্বাভাবিক বা তীব্র মাথাব্যথা, যা আগে কখনো হয়নি। এই মাথাব্যথার সঙ্গে বমিভাব বা দৃষ্টিজনিত সমস্যাও থাকতে পারে। হাত বা পায়ে হঠাৎ অসাড়তা বা দুর্বলতা অনুভব করাও এর একটি লক্ষণ।
বিশেষ সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে মিনি স্ট্রোক বা ট্রানজেন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (টিআইএ)। কিছু ক্ষেত্রে হঠাৎ কয়েক মিনিটের জন্য লক্ষণ দেখা দিয়ে আবার ঠিক হয়ে যায়। একে মিনি স্ট্রোক বলা হয়। এটি ভবিষ্যতে বড় স্ট্রোকের ঝুঁকির স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। এই অবস্থায় মুখ, হাত বা পায়ের একপাশ অবশ হয়ে যেতে পারে।
কথা জড়িয়ে যাওয়া বা অস্পষ্টভাবে কথা বলা, হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা চোখে অন্ধকার দেখার মতো ঘটনা ঘটে। লক্ষণগুলো কিছু সময় পর নিজে থেকেই সেরে গেলেও এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা করা যাবে না। দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
স্ট্রোক প্রতিরোধে কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা। ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে বিরত থাকা। প্রতিদিন নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা। লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া। এছাড়া নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। সচেতনতা ও সময়মতো ব্যবস্থা গ্রহণই পারে স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে।
এসএইচ