কীভাবে বাড়াবেন রক্তের প্লাটিলেট?

  • স্বাস্থ্য ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৩, ১২:৪২ পিএম

ঢাকা : বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হল মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু। এই রোগে প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ এবং মারাও যাচ্ছে অনেকে।

ডেঙ্গুতে বেশীরভাগ রোগীর যেটা হয় তা হল রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে যাওয়া। এতে করে শরীরে বিভিন্ন স্থানে রক্তক্ষরণের কারণে হেমারেজিক শকের কারণে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই ডেঙ্গু হলে শুরু থেকেই রক্তের প্লাটিলেটের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

প্লাটিলেট কি?

মানবদেহে থাকা তিন ধরনের রক্তকণিকার সবচেয়ে ছোট আকারটি হলো প্লাটিলেট বা অনুচক্রিকা। এই অণুচক্রিকার উৎপাদন হয় অস্থিমজ্জায় যা রক্তকে দ্রুত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। শরীরে কোথাও কেটে গেলে প্লাটিলেটের সাহায্যেই দ্রুত রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়।

তবে মানবদেহে রক্তে যখন এই প্লাটিলেট কমতে থাকে তাকে বলা হয় থ্রোম্বোসাইটোপেনিয়া। প্লাটিলেট ধ্বংস হয়ে যাওয়া বা পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি না হওয়াসহ নানা কারণে কমতে থাকে প্লাটিলেটের পরিমাণ।

[202814]

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরের প্রতি মাইক্রোলিটার রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা দেড় লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ পর্যন্ত। এই পরিমাপের চাইতে প্লাটিলেটের মাত্রা কমে গেলে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না। ফলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি দেখা দেয়। আর প্লাটিলেট এক লাখের নিচে নেমে গেলে তাকে জটিল পরিস্থিতি বলে ধরে নেওয়া যায়।

প্লাটিলেট কমার লক্ষণ : আর প্লাটিলেট কমতে শুরু করলে শরীরে একাধিক লক্ষণ দেখা দেয়। যা অনেকেই অবহেলা করেন। তবে এই লক্ষণগুলো দেখার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে না গেলে বিপদ হতে পারে।

১. প্লাটিলেট কমে যাওয়ার প্রধান ও প্রথম লক্ষণ জ্বর। এতে রোগীর শরীরের তাপমাত্রা ১০১ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে।

২. মাথা ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি কিন্তু প্লাটিলেট কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

৩. জ্বরের পাশাপাশি চোখের ভেতরে ও পেছনের দিকে ব্যথা হতে পারে ডেঙ্গু হলে ও প্লাটিলেট কমতে শুরু করলে।

৪. প্লাটিলেটের সংখ্যা ২০ হাজারের নিচে নেমে এলে কোনও প্রকার আঘাত ছাড়াই শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তক্ষরণ হতে পারে।

৫. অনেক সময় ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা যায় রক্তে প্লাটিলেট কমে গেলে।

কি খেলে বাড়বে প্লাটিলেট?

বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তে প্লাটিলেট কমে গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। তাই এই সময় পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণ ও সুষম পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খেলে রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব।

১. মিষ্টি কুমড়া এবং এর বীজে থাকা ভিটামিন ‘এ’ রক্তে প্লাটিলেট তৈরিতে সাহায্যে করে। তাই ডেঙ্গু রোগীর রক্তে প্লাটিলেট কমে গেলে মিষ্টি কুমড়া খাওয়া উপকারী।

২. পেঁপে পাতাতে অ্যাসিটোজেনিন নামে একটি অনন্য ফাইটোকেমিক্যাল থাকে, যা প্লাটিলেটের সংখ্যা দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ফ্লেভানয়েড ও ক্যারোটিনও থাকে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি (প্রদাহনাশক) হিসেবেও কাজ করে। ৪/৫টা পেঁপে পাতাকে পানিতে ফুটিয়ে সকালে ও সন্ধ্যায় এক কাপ করে পান করুন।

৩. লেবুর রসে থাকা প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ বাড়ায়। এ ছাড়া শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। তাই ডেঙ্গু রোগীকে প্রচুর লেবু শরবত খাওয়ানো উচিত।

৪. আমলকীতেও রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট । আমলকী খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং প্লাটিলেট ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা করে।

৫. ডেঙ্গু রোগীর খাদ্যতালিকায় অবশ্যই ডালিম রাখতে হবে। এটি প্লাটিলেটের সংখ্যাকে কমতে না দিয়ে বরং যা কমেছে তা দ্রুত পূরণ করে। ডালিমে প্রচুর পরিমাণে আয়রনসহ রোগ নিরাময়ের অন্যান্য উপাদানও আছে। এটা রক্ত বৃদ্ধিতেও সহায়ক।

৬. ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ভিটামিন কে সমৃদ্ধ খাবার অপরিহার্য। প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে ভিটামিন কে অনেক কার্যকর। এটি শরীরের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি কমাতে পারে, অর্থাৎ রক্ত জমাটের ক্ষমতা রয়েছে। পালংশাক, ব্রোকলি, বাঁধাকপি এসব শাকসবজির ফোলেটও প্লাটিলেট বাড়াতে অবদান রাখতে পারে।

৭. রক্তের যেকোনো সংক্রমণ দূর করতেও অ্যালোভেরা খুবই উপকারী। নিয়মিত অ্যালোভেরার জুস পান করলে রক্তের প্লাটিলেট বাড়ে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই