ঢাকা: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) চন্দন কুমার দে কর্মজীবন শেষে পিআরএলে যাবেন আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত একজন সংস্কৃতিমনা কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী।
এসব যোগ্যতা বিবেচনায় আরো দুই বছরের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপিকে আধাসরকারি পত্রে অনুরোধ করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। যদিও এ ধরনের তদবির সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
[205426]
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে দেয়া আধাসরকারি পত্রে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, চন্দন কুমার দে ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন সংস্কার সংরক্ষণ ও ঢাকা মহানগর জাদুঘর স্থাপন" শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক” হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী উক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান মহাপরিচালকের মতো একজন দক্ষ ও পেশাগত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কর্মকর্তাকে অধিদপ্তরের দায়িত্বে বহাল রাখা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
তিনি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে যোগদান করার পর থেকে অধিদপ্তরের কাজে ব্যাপক গতি সঞ্চার হয়েছে। তিনি অধিদপ্তরের শূণ্যপদে ৪৫ জন জনবল নিয়োগ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছেন এবং প্রত্নতত্ত্ব ভবনের প্ল্যান অনুযায়ী ৩য় ও ৪র্থ তলায় (সাবেক তথ্য কমিশন কার্যালয়) প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তি ও জাদুঘরসমূহের সংস্কার সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প, ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রত্নস্থলসমূহের সংস্কার সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পসহ মোট ৫টি প্রকল্প ২০২০-২৪ অর্থ বছরের এডিপিতে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত প্রকল্পের তালিকায় স্থান পেয়েছে।
চন্দন কুমার দে'র নেতৃত্বে ইউনেস্কো ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ অর্থায়নে ট্রেনিং আ্যন্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কর্মসূচি সম্পাদিত হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ড্রাফট ফ্রেমওয়ার্ক অন ম্যানেজমেন্ট ফর হেরিটেজ সাইট অ্যান্ড মনুমেন্ট অব বাংলাদেশ প্রকাশনাটি মুদ্রিত হয়েছে যেখানে আগামী ৩০ বছরের কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। লালবাগ কেল্লার হাম্মামখানার পদ্ধতিগত সংস্কার কাজ সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে যা গবেষক ও দর্শনার্থী মহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। উপযুক্ত কার্যক্রম এডডিজি এর ১১.৪ অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত একজন সংস্কৃতিবান কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী। বর্তমান সরকারের রূপকল্প ও অভিলক্ষ্য বাস্তবায়নে নিবেদিত দায়িত্বশীল ও কর্মঠ কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর সততা, নিষ্ঠা, কর্মদক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কার্যক্রমের পরিধি বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে মর্মে আমি দৃড়ভাবে বিশ্বাস করি।
এমতাবস্থায়, বিশেষ অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ সৎ, দক্ষ এবং সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইতিবাচক মনোবৃত্তি সম্পন্ন কর্মকর্তা চন্দন কুমার দে, মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে তাঁর বর্তমান পদে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব প্রদানের নিমিত্ত পিআরএল স্থগিতপূর্বক ২ (দুই) বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়ার সদয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সানুগ্রহ হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।
১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী তাঁর চাকরি-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে প্রভাব খাটাতে পারেন না। সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ৩০ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারী তার চাকরি-সংক্রান্ত কোনো দাবির সমর্থনে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে সরকার বা কোনো সরকারি কর্মচারীর ওপর রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বহিঃপ্রভাব খাটাইতে বা খাটাইবার চেষ্টা করিতে পারিবেন না।’
একই আইনে তদবির করার জন্য সংসদ সদস্যদের কাছে যাওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। আইনটির ২০ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোন সরকারি কর্মচারী কোনো ব্যাপারে তাহার পক্ষে হস্তক্ষেপ করার জন্য সংসদ সদস্য বা অন্য কোনো বেসরকারি ব্যক্তিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনুরোধ জানাইতে পারিবেন না।’
১৯৫৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক স্মারকেও কোনো সরকারি কর্মচারী তার চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য কোনো মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যের কাছে তদবির করতে পারবেন না বলে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
সোনালীনিউজ/এসআই/আইএ