যেসব কারণে বাতিল হতে পারে প্রার্থিতা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০২৩, ০৬:১৭ পিএম
ফাইল ছবি

ঢাকা: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি। ৩০ নভেম্বর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার তারিখ শেষ হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাছাই শুরু হয়েছে ১ ডিসেম্বর থেকে। চলবে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ৩০০ আসনে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে দুই হাজার সাতশর বেশি প্রার্থী। নির্বাচনী বিধিমালার নির্দিষ্ট নিয়ম না মানলে মনোনয়ন জমা দেয়ার পর কিংবা বৈধ প্রার্থী হিসেবে গণ্য হলেও বাতিল হতে পারে তার প্রার্থিতা।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে প্রয়োজনীয় তথ্য এবং আনুষাঙ্গিক বিষয়সহ মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার মাধ্যমে আগ্রহী ব্যক্তি নির্বাচনের প্রার্থী হবার জন্য প্রার্থিতা চাইতে পারেন। তবে যাচাই-বাছাই পর্যায় শেষ করে যখন তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য উপযুক্ত হিসেবে ছাড়পত্র পাবেন, তখনই তিনি প্রার্থী হিসেবে গণ্য হবেন।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ১ ও ২ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনে দাঁড়াতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং বয়স ২৫ বছরের বেশি হতে হবে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কমিশনে জামানত হিসেবে জমা দিতে হবে।

এছাড়া আদালত থেকে কোনো ব্যক্তি যদি ’অপ্রকৃতিস্থ’ বলে ঘোষিত হন তাহলে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। কেউ যদি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিক হয় বা আনুগত্য স্বীকার করে তিনিও প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। কোন প্রার্থী যদি মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জামানত হিসেবে না দেন তবে যাচাই-বাছাই পর্যায়েই তার প্রার্থিতা বাতিল হবে।

অন্যদিকে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর নাম, পিতা-মাতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, প্রস্তাবকের নাম, সমর্থকের নাম, প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষর, তিনি হলফনামা যথাযথভাবে পূরণ করেছেন কি-না, প্রার্থীর নামে কোনো ফৌজদারি মামলা আছে কিনা এবং প্রার্থী ও তার পরিবারের সদস্যদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণ সংযুক্ত করতে হযবে। কেউ যদি হলফনামার সঙ্গে চাওয়া ৮টি তথ্য ঠিকভাবে না দিতে পারেন তাহলেও তার প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে।

তবে সমর্থকের ভোটার নাম্বার ভুলের মতো ছোটখাটো ভুল ত্রুটির জন্য রিটার্নিং অফিসার প্রার্থিতা বাতিল করবেন না। সেক্ষেত্রে মনোনয়ন জমা দেয়া ব্যক্তিকে সংশোধনের সুযোগ দেয়ার নিয়ম রয়েছে। নতুন নিয়মে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে আয়কর সনদ জমা দিতে হবে। এটি না দিলে মনোনয়নপত্র বাতিল হতে পারে।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য কোন ব্যক্তি যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র কেনেন তবে তাকে বিশেষ নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেয়া ব্যক্তি যদি আগে কখনো নির্বাচিত হয়ে থাকেন তবে কেবল গ্যাজেট জমা দিলেই হবে। কিন্তু প্রথমবারের মতো নির্বাচনে এলে তাকে ওই এলাকার মোট ভোটারের এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর জমা দিতে হবে।

কেউ যদি ঋণখেলাপি হন, তারপর সাজাপ্রাপ্ত হন বা ইউটিলিটি বিল বাকি আছে এমন হয়, তাহলে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হবে। যেমন কোনো ব্যক্তি নৈতিক স্খলনজনিত কারণে কোনো ফৌজদারি অপরাধে যদি দোষী সাব্যস্ত হন এবং শাস্তিস্বরূপ কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ড পান তবে কারাভোগের পর পাঁচ বছর সময় পর্যন্ত তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না।

যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার পর রিটার্নিং অফিসার যদি কারও প্রার্থিতা বাতিল করে তবে এর প্রতিকারে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মনোনয়ন না পাওয়া ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনে আবেদন করতে পারবেন। সেখানেও ফলাফল তার বিপরীতে গেলে তিনি চূড়ান্ত নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যেতে পারবেন। সবশেষে নির্বাচন কমিশন যদি প্রার্থিতা বাতিল করে গেজেট ঘোষণা করে দেয় তবে তিনি কোর্টে যেতে পারবেন।

ওয়াইএ