রাজধানীতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৬, ০২:৪০ পিএম

অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বেশি। কোরবানির ঈদের আগে-পরে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে ডেঙ্গুসহ মশার উপদ্রব বেড়েছে রাজধানীতে। আর তাই তারা পাড়া-মহল্লা ঘুরে ঘুরে মশার ওষুধ ছেটানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন ডিএসসিসি’র কর্মচারীরা।

ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের ইনচার্জ ডা. আয়েশা আক্তার জানান, ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে মোট ৩ হাজার ১শ ১৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে মে মাসে ১ জন, জুন মাসে ২ জন, জুলাইয়ে ২ জন, আগস্টে ১ জন ও সেপ্টেম্বরে ১ জনের মৃত্যু হয়। গত দুই-তিন বছরের মধ্যে চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে সর্বাধিক রোগী আক্রান্ত হয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬০।

মোট রোগীর মধ্যে ঢামেকে ৭ জন, মিটফোর্ডে ১ জন, শহীদ সোহরোওয়ার্দীতে ৪ জন, হলি ফ্যামিলিতে ১০ জন, বারডেমে ৪ জন, মুগদায় ১ জন, বাংলাদেশ মেডিকেলে ২ জন, ইবনে সিনায় ৭ জন, স্কয়ারে ২ জন, সেন্ট্রাল হসপিটালে ৮ জন, ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে ১ জন, ইউনাইটেড হাসপাতালে ৭ জন, খিদমাহ হাসপাতালে ১ জন, সালাউদ্দিনে ১ জন ও পপুলারে ৪ জন ভর্তি রয়েছেন।

ডা. আয়েশা জানান, বর্তমানে থেমে থেকে বৃষ্টির কারণে ডেঙ্গু মশার উপদ্রব বেড়েছে। বাড়ির আঙিনায়, নির্মাণাধীন বাড়িতে বৃষ্টির পরিষ্কার পানি টায়ার-টিউবে, ডাবের খোসা ও ভাঙা প্লাস্টিকের বোতলে জমে ডেঙ্গু মশার জম্ম হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল কম। জানুযারিতে আক্রান্ত ছিলেন ১৩ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন, মার্চে ১৭, এপ্রিলে ৩৮ ও মে মাসে ৬৬ জন।

কিন্ত জুলাই থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই হাজার ৮১৭ জন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। জুন মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩৯ জন, জুলাইয়ে ৮৭৯, আগস্টে সর্বাধিক এক হাজার ৩০৭ জন ও সেপ্টেম্বরে ৩৯২ জন আক্রান্ত হয়েছেন এই রোগে।

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দ্য হু স্ট্রাটেজিক অ্যাডভাইজারি গ্রুপ অব এক্সপার্টস্ (এসএজিএ) বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিশ্বে বিগত ৬ দশকে মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৩০ গুণ বেড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশে উদ্বেগজনক হারে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে রোগ প্রতিরোধে নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন থাকা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিশ্বের মোট ১২৮টি দেশের প্রায় ৩৯ কোটি লোক প্রতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। এদের মধ্যে মাত্র পাঁচ লাখ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এমএইউ