পে-স্কেল নিয়ে কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত

  • সোনালী ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
ফাইল ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে পে-কমিশন। দীর্ঘ আলোচনা ও নানা প্রস্তাব পর্যালোচনার পর গ্রেড কাঠামোতে বড় কোনো পরিবর্তনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা ও বাস্তবতা বিবেচনায় বর্তমানের মতোই ২০টি গ্রেড বহাল রাখার পথেই হাঁটছে কমিশন।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত পে-কমিশনের পূর্ণ সভায় গ্রেড সংখ্যা কমানো বা পুনর্গঠনের প্রস্তাব আলোচনায় এলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়। কমিশনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রেড কাঠামো অপরিবর্তিত রেখেই বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হবে। সভা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কমিশনের একজন সদস্য গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তবে গ্রেড কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্ত এলেও পুরো বেতন কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের হার নির্ধারণে কমিশনের সদস্যদের মধ্যে এখনো ঐকমত্য তৈরি হয়নি। এই দুটি অঙ্ক চূড়ান্ত না হওয়ায় নবম পে-স্কেলের পূর্ণ রূপরেখা ঘোষণা আপাতত ঝুলে আছে।

সভায় বেতন কাঠামোর পাশাপাশি পেনশন, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়েও আলোচনা হয়। তবে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সর্বনিম্ন বেতন। কমিশন সূত্র জানায়, এই বিষয়েই মতপার্থক্য সবচেয়ে বেশি, যার কারণে অন্যান্য সিদ্ধান্তও আটকে যাচ্ছে।

সূত্র অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী সভায় সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসবে। এর আগে কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে নীতিগত দিকনির্দেশনা বা সবুজ সংকেত নেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারেন।

এর আগে বেতন বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার একটি প্রস্তাব আলোচনায় এসেছিল। সেটিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সব মিলিয়ে, গ্রেড কাঠামো অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তে নবম পে-স্কেল নিয়ে এক ধাপ অগ্রগতি হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশিত নতুন বেতন কাঠামো পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। এখন সবার নজর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে।

এসএইচ