সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেলের আওতায় মূল বেতন অথবা ভাতার কোনো একটি অংশ আগামী জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার লক্ষ্য ধরে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে পুরো কাঠামো বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।
জাতীয় বেতন কমিশন নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ করার সুপারিশ চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর ঢাকায় মোট বেতন-ভাতা দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪২ হাজার টাকা। মূল বেতনের পাশাপাশি আগের মতোই বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বহাল থাকবে।
জাতীয় বেতন কমিশনের প্রধান ও সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান জানিয়েছেন, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বাস্তবতা বিবেচনায় একটি শক্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ছয় মাসের মেয়াদে জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর এখন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
কমিশনের এক সদস্য জানান, নতুন কাঠামোতেও বর্তমানের মতো ২০টি গ্রেড বহাল থাকবে। তবে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯ থেকে কমিয়ে ১:৮ করার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, সব গ্রেডেই বর্তমান বেতনের তুলনায় দ্বিগুণ বা তার বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ রয়েছে।
বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, নবম গ্রেডে একজন বিসিএস কর্মকর্তা পান ২২ হাজার টাকা এবং সচিবদের মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে ৮৬ হাজার টাকার মধ্যে।
যদিও নতুন পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, তবুও অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেটে সম্ভাব্য ব্যয়ের প্রস্তুতি রেখেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৬ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এই বাড়তি বরাদ্দের মাধ্যমে জানুয়ারি থেকে আংশিক বাস্তবায়নের পথ খোলা রাখা হয়েছে। তবে অবশিষ্ট অংশ বাস্তবায়নের বিষয়টি পরবর্তী সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, সুদের উচ্চ ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে পুরো সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদও জানিয়েছেন, পে কমিশনের প্রস্তাব শক্ত হলেও বাস্তবায়ন হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
এম