পে স্কেলের সুপারিশে যা আছে, দেখুন বিস্তারিত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
ফাইল ছবি

প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন ধরা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত দাঁড়াচ্ছে ১:৮। আজ বুধবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া জাতীয় বেতন কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই সুপারিশ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বেতন কাঠামোর ইতিহাস বলছে, ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় বেতন কমিশনে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ছিল ১:১৫.৪। পরে ২০১৫ সালের সর্বশেষ বেতন কমিশনে তা কমে আসে ১:৯.৪-এ। বর্তমান জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ সালে সেই ব্যবধান আরও কমিয়ে ১:৮ করার সুপারিশ করেছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন।

প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় বলা হয়েছে, বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে তাঁর মোট প্রাপ্তি দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা। নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হলে ওই কর্মচারীর মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা এবং ভাতাসহ মোট বেতন-ভাতা দাঁড়াবে ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯তম গ্রেড থেকে ১ম গ্রেড পর্যন্ত সব স্তরেই বেতন ও ভাতা বাড়বে। তবে সমতা ও যুক্তিসংগত বিবেচনায় উচ্চ গ্রেডের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম রাখা হয়েছে।

কমিশনের সুপারিশে আরও বলা হয়েছে, যেসব ভাতা ১০ম বা ১১তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা পান—যেমন যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা ও ঝুঁকিভাতা—সেগুলোর ক্ষেত্রেও পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। তবে ৫ম গ্রেড থেকে তদূর্ধ্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য গাড়ি সেবা নগদায়ন ভাতা হিসাবের আওতায় আনা হয়নি। এ কারণে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে বর্তমানে দেওয়া ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সমন্বয়ের সুপারিশ করেছে কমিশন।

নতুন এই কাঠামো কার্যকর হলে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সরকারি কর্মচারীদের আয় কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 

এসএইচ