ঢাকা: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেছেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছয়জন সাংবাদিক নিহত হওয়ার পরও সাংবাদিকদের জন্য ন্যূনতম সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে বাংলাদেশে সাংবাদিকতার নিরাপত্তা সংকট শুধু সরকারের ব্যর্থতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এই দায় থেকে সংবাদমাধ্যমের মালিকপক্ষ, সম্পাদক পরিষদ ও সাংবাদিকদের পেশাজীবী সংগঠনগুলোও এড়াতে পারে না।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ডিআরইউর কাছে ইউনেস্কোর গ্লোবাল মিডিয়া ডিফেন্স ফান্ডের সহায়তায় ‘সাংবাদিক সহায়তা ডেস্ক হস্তান্তর’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও সহিংস পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের মাঠে পাঠানো হলেও বেশিরভাগ গণমাধ্যমই তাদের জন্য হেলমেট, বুলেটপ্রুফ ভেস্ট, গগলস বা টিয়ার গ্যাস প্রতিরোধী কোনো সরঞ্জাম দেয়া হয় না। অথচ যারা সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। প্রেস সচিব আরও বলেন, ছয়জন সাংবাদিক নিহত ও অনেকেই নির্মম নির্যাতনের শিকার হলেও সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে জোরালো প্রতিবাদ বা বিবৃতি দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা অবশ্যই প্রয়োজন এবং সরকারের ব্যর্থতা দেখিয়েছেন এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ইভেন্ট কাভার করতে সাংবাদিকদের পাঠানো প্রতিষ্ঠান ও মালিকপক্ষের দায় নিয়েও প্রশ্ন তোলা জরুরি। শুধু সরকারকে দোষারোপ করে অন্য দায়গুলো আড়াল করা ঠিক নয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ইউনেস্কো বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান ও বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ বলেন, সাংবাদিকরা অনেক ক্ষেত্রে সাহসিকতা ও দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়ে সত্য তুলে ধরেন। তবে কিছু ঘটনায় ন্যায্যতা ও নৈতিকতার সীমা অতিক্রমের উদাহরণও রয়েছে, যা শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও দেখা যায়। অনেক সময় আইনি জটিলতা থাকে। তিনি বলেন, এই ‘লিগ্যাল সাপোর্ট ডেস্ক’ সাংবাদিকদের আইনি পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করতে, তাদের দায়িত্ব ও অধিকার বুঝতে এবং কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে করণীয় নির্ধারণে সহায়তা করবে। নির্বাচনের আগে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী।
সমাপনী বক্তব্যে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংকীর্ণতা পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা ঘরে-বাইরে, অফিসে ও রাস্তায় প্রতিনিয়ত নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাংবাদিকরা ঠিক মতো বেতন না পেয়ে পরিবার চালাতে গিয়ে চরম দুরবস্থার মুখে পড়ছেন।
তিনি আরও বলেন, অফিস থেকে ভালো রিপোর্ট চাওয়া হয়, কিন্তু সেই রিপোর্ট করার জন্য যে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা দরকার, তা মালিকপক্ষ কখনো বোঝে না। এছাড়া, দুর্নীতিবাজ, রাজনৈতিক ব্যক্তি বা প্রভাবশালীরা আমাদের সহকর্মীর রিপোর্টে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা আমাদের নানাভাবে হয়রানি করে থাকে।
ডিআরইউর পরিচিতি তুলে ধরে সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, বিপদে-আপদে সব সময়ই ডিআরইউ সাংবাদিকদের পাশে থাকে। যখনই কোন সাংবাদিক মামলা, হামলার শিকার হন তখনই ডিআরইউ তার পক্ষে শক্ত অবস্থান নেন এবং তাদের পক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করে। সদস্যদের আইনী সহায়তা দেয়ার জন্য ডিআরইউ একটি সেলও গঠন করেছে। এই ডেস্কের মাধ্যমে সাংবাদিকদের আইনগত সহায়তা আরও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দেয়া সম্ভব হবে। ইউনেস্কো ও সমষ্টিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিকে একটি যোগ্য ও শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে ইউনেস্কো আমাদেরকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, ইনশাল্লাহ আমরা তা পালন করতে সক্ষম হবো।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ’র কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া ও কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আকতার হোসেন, আলী আজম, মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন, সুমন চৌধুরী ও মো: মাজাহারুল ইসলাম।
পিএস