প্রথমবারের মতো দেশে চালু হওয়া পোস্টাল ভোট ব্যবস্থায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে প্রবাসীরা বাংলাদেশে ব্যালট পাঠানো শুরু করেছেন। নির্বাচন কমিশনের তৈরি পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করা ভোটারদের পাঠানো ব্যালট ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত দেড় লক্ষাধিক প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। সংখ্যায় কম মনে হলেও এই ভোট অনেক আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইসি সূত্র অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পোস্টাল ভোটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ১৫ লাখ ২৭ হাজার ১৫৫ জন ভোটারকে, যা মোট ভোটারের প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ। এই ভোটারদের মধ্যে প্রবাসী রয়েছেন ৭ লাখ ৬০ হাজারের কিছু বেশি। বাকিরা দেশের ভেতর থেকে নিবন্ধন করেছেন।
দেশের ভেতর নিবন্ধনকারীদের মধ্যে পৌনে ছয় লাখ সরকারি চাকরিজীবী, প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার নির্বাচনি কর্মকর্তা, ১০ হাজার আনসার ও ভিডিপি সদস্য এবং ছয় হাজারের কিছু বেশি কারাবন্দি রয়েছেন। তবে প্রবাসে মোট কতজন বাংলাদেশি ভোটার রয়েছেন, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
নির্বাচন কমিশন বলছে, পোস্টাল ব্যালট ভোটিংয়ের বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যালট পাঠানো ও ফেরত আনা। এ কারণে নিবন্ধিত ভোটাররা নির্বাচনের বেশ কিছুদিন আগেই ভোট দিতে পারবেন, যাতে ভোটের দিন আগেই ব্যালট দেশে পৌঁছায়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে যেসব ব্যালট পৌঁছাবে না, সেগুলো গণনায় ধরা হবে না।
ইসি সূত্র জানায়, ১৫ লাখের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন করলেও সবাই যে ভোট দেবেন, তা নিশ্চিত নয়। তবে কোনো কোনো আসনে এই ভোটই ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে ১৮টি সংসদীয় আসনে ১০ হাজারের বেশি পোস্টাল ভোট নিবন্ধন হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি পোস্টাল ভোট নিবন্ধন হয়েছে ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজার ৩৮ জন। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ২৭২, কুমিল্লা-১০ আসনে ১৩ হাজার ৯৩৮, নোয়াখালী-১ আসনে ১৩ হাজার ৫৯২, নোয়াখালী-৩ আসনে ১২ হাজার ৭৪৫ এবং ফেনী-২ আসনে ১২ হাজার ৫৪১ জন ভোটার।
১০ হাজারের বেশি পোস্টাল ভোট নিবন্ধন হয়েছে কুমিল্লা-৪, ৫, ৬, ৯ ও ১১, সিলেট-১, চাঁদপুর-৫, নোয়াখালী-৪ ও ৫, ফেনী-১, কক্সবাজার-৩ এবং লক্ষ্মীপুর-২ আসনেও।
এ ছাড়া পাঁচ হাজার থেকে ১০ হাজারের মধ্যে পোস্টাল ভোট নিবন্ধন হয়েছে ৯৭টি আসনে। সবচেয়ে কম নিবন্ধন হয়েছে বাগেরহাট-৩ আসনে, যেখানে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৫৯৫ জন।
আট হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন হয়েছে ঢাকা-৮, মুন্সীগঞ্জ-১, চাঁদপুর-৩ ও ২, কুমিল্লা-১ ও ৮, ঢাকা-১ ও ১৮, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ এবং রাজবাড়ী-২ আসনে।
সাত হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন হয়েছে সিলেট-৫, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, চাঁদপুর-১, চট্টগ্রাম-২, ঢাকা-১৫, কিশোরগঞ্জ-২, কুমিল্লা-২, যশোর-২, ঝিনাইদহ-২, লক্ষ্মীপুর-১ ও খাগড়াছড়ি আসনে।
ছয় হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে নরসিংদী-৫, যশোর-৩, চট্টগ্রাম-৫ ও ১৬, মৌলভীবাজার-৩, বরিশাল-৫, শরীয়তপুর-২, নারায়ণগঞ্জ-৩, চট্টগ্রাম-১, মৌলভীবাজার-১, কিশোরগঞ্জ-১, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১, ঢাকা-১০, বরগুনা-১, ময়মনসিংহ-৪, সাতক্ষীরা-২, নরসিংদী-৪, সিলেট-৩, চট্টগ্রাম-১০, মাদারীপুর-৩ ও ঢাকা-৯ আসনে।
পাঁচ হাজারের বেশি পোস্টাল ভোট নিবন্ধন রয়েছে ৪৬টি আসনে। পাঁচ হাজারের নিচে কিন্তু এক হাজার ৫০০-এর বেশি ভোটার নিবন্ধন হয়েছে ১৭৬টি আসনে।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটারদের পাঠানো খামে দুটি ব্যালট পেপার থাকবে। একটি গণভোটের এবং অন্যটি সংসদ নির্বাচনের। ভোটাররা ব্যালট পাওয়ার পর প্রার্থিতা চূড়ান্ত হলে অ্যাপে প্রবেশ করে নিজ আসনের প্রার্থীদের তালিকা দেখতে পারবেন। ব্যালটে কেবল প্রতীক থাকবে, কোনো প্রার্থীর নাম থাকবে না। ব্যালটে ভোট দিয়ে তা নির্ধারিত খামে ভরে নিকটস্থ পোস্ট অফিস বা পোস্টবক্সে পাঠাতে হবে। সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ভোটের দিন এসব ব্যালট গণনা করবেন।
এসএইচ