ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করতে চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান 

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
ফাইল ছবি

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে লড়ছে বাংলাদেশ। প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে মনোনীত করা হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে। নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এতে বাংলাদেশ জয়লাভ করলে দ্বিতীয়বারের মতো দেশের কোনও প্রার্থী সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বসার গৌরব অর্জন করবেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী মন্ত্রিত্বে থাকা অবস্থায় এই পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমান প্রার্থী ড. খলিলুর রহমানও একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান।

প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক আবর্তন নীতি অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হবেন এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে। এই পদের জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং সাইপ্রাসের বহুপাক্ষিকতা-বিষয়ক বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেয়াস কাকুরিস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে যিনি জয়ী হবেন, তিনি আগামী এক বছরের জন্য বর্তমান সভাপতি ও জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

তবে ড. খলিলুর রহমানের এই প্রার্থিতা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে সমালোচনা না থাকলেও, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে থাকা নিয়ে দেশের ভেতর কিছু প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক কূটনীতিকদের মতে, একই সঙ্গে দুই পদে থাকার নজির অতীতে কম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাবেক কূটনীতিক, সাবেক মন্ত্রী বা সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানরাই এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

অবশ্য এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ড. খলিলুর রহমান। সম্প্রতি জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির সঙ্গে সুশীল সমাজের এক সংলাপে তিনি জানান, তার পদত্যাগ করার কোনও প্রশ্নই আসে না। তিনি এক বছরের জন্য ছুটি নেবেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এতে সম্মতি দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে এক বছরের জন্য পূর্ণকালীন কাজ করার অনুমতি দিয়েছেন, তাই পদত্যাগই একমাত্র বিকল্প নয়। এর আগে ২০২১ সালে মালদ্বীপের আবদুল্লাহ শহীদও নিজের দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেই সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব সামলেছিলেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী প্রধান আলোচনামূলক ও নীতিনির্ধারণী সংস্থার প্রধান হিসেবে কাজ করেন। এক বছরের মেয়াদে তাকে নিরপেক্ষ থেকে সভা পরিচালনা, এজেন্ডা নিয়ন্ত্রণ ও কূটনৈতিক নেতৃত্ব দিতে হয়। নিজ দেশের পক্ষে তিনি কোনও ভোট দিতে পারেন না।

ড. খলিলুর রহমান আশ্বস্ত করেছেন, তিনি সব সদস্য রাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত উপায়ে কাজ করবেন এবং ছোট ও কম প্রতিনিধিত্বশীল দেশগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেবেন। তিনি জাতিসংঘ সনদ এবং নিয়ম-পদ্ধতি সঠিকভাবে প্রয়োগের অঙ্গীকারও করেছেন।

তবে রাষ্ট্রীয় পদ ধরে রেখে জাতিসংঘে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন দেশের কিছু কূটনৈতিক বিশ্লেষক। জাতিসংঘে কাজ করা বাংলাদেশের সাবেক এক কূটনীতিক জানান, বাংলাদেশের এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় সংকট রোহিঙ্গা ইস্যু। এখন রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ যদি কোনও সভা আহ্বান করে এবং সেখানে ভিক্টিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতিত্ব করেন, তবে সেই নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তাছাড়া, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী যদি এক বছর ছুটিতে থাকেন, তবে দেশের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও নীতি নির্ধারণের কাজ কে সামলাবে, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন।

ড. খলিলুর রহমান গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৯ সালে কূটনৈতিক সেবা শুরু করা ড. রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। পরে হার্ভার্ড ও ফ্লেচার স্কুল থেকে আইন, কূটনীতি ও অর্থনীতিতে উচ্চতর ডিগ্রি নেন। তিনি দীর্ঘদিন জাতিসংঘ সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিগত পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ঢাকার ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রতিষ্ঠাতা।

এসএইচ