১১ জুন বাজেট, পে স্কেল নিয়ে এখনো নীরব কেন সরকার?

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
ফাইল ছবি

দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষা শেষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল কাঙ্ক্ষিত নবম পে স্কেল এখন দোরগোড়ায় এলেও তা নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধোঁয়াশাময় পরিস্থিতি। আগামী ৭ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে এবং ১১ জুন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেট পেশ করবেন। সংশ্লিষ্ট মহলে জোর আলোচনা চলছে যে, এবারের বাজেটে পে স্কেলের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ থোক বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। তবে এত কিছুর পরও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় চাকরিজীবীদের মনে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা চরমে পৌঁছেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, আসন্ন ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল আদৌ কি বাস্তবায়ন হবে? আর হলে বাজেট ঘোষণার এই চূড়ান্ত সময়েও সরকার এখনো নীরব কেন?

সরকারি চাকরিজীবীরা বলছেন, নবম পে স্কেল নিয়ে এখন পর্যন্ত যত তথ্য সামনে এসেছে, তার সবই কেবল সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় কিংবা পে কমিশনের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে স্পষ্ট বা আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেননি। সরকারের এই রহস্যজনক নীরবতার কারণে আগামী ১ জুলাই থেকে এই নতুন কাঠামো আসলেই কার্যকর হচ্ছে কি না এবং তা ঠিক কীভাবে হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।

এই অনিশ্চয়তা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক জানান, মনের ভেতর একটা বড় ভয় থেকেই যাচ্ছে। সরকার প্রতি মুহূর্তে বিভিন্ন বিষয়ে ব্রিফিং ও বিবৃতি দিলেও পে স্কেল নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি। ফলে কর্মচারীদের মনে শঙ্কা তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটে কর্মচারীদের ভাগ্য নির্ধারণে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হবে এবং দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

সরকারি সূত্র থেকে অবশ্য জানা গেছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুরো নতুন বেতন কাঠামো এককালীন কার্যকর না করার একটি কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি মোট তিন ধাপে বা তিন অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী জুলাই মাস থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন মূল বেতনের (বেসিক) অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ পেতে শুরু করবেন এবং পরবর্তী অর্থবছরে কার্যকর হবে মূল বেতনের বাকি অর্ধেক অংশ। এর পরের অর্থাৎ ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে নতুন পে স্কেলের আওতায় নির্ধারিত বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা ধাপে ধাপে চালু করা হবে।

তবে সরকারের এই পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনার বিপরীতে প্রথম ধাপেই শতভাগ বেসিক সুবিধা চালুর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিগত ১১ বছরে কর্মচারীদের বেতনে মৌলিক পরিবর্তন না এলেও দ্রব্যমূল্য ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে অনেক কর্মচারী জীবিকার তাগিদে চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। অতীতে ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দিয়ে দুই ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হতো, যেখানে প্রথম ধাপে শতভাগ বেসিক এবং দ্বিতীয় ধাপে সব ভাতা কার্যকর হতো। এবারও প্রথম ধাপে শতভাগ বেসিক সুবিধা দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আসন্ন বাজেটে এই খাতের জন্য ৩০ থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকলেও সরকারের নীরবতার কারণে চূড়ান্ত চিত্রটি এখনো অন্ধকারেই রয়ে গেছে। আগামী ১১ জুন অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশ করার পরই পরিষ্কার হবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান আসলেই ঘটছে কি না, নাকি এই নীরবতা আরও দীর্ঘ হবে।

এসএইচ