আগামী ১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে কোনো ধরনের ধাপ বিভাজন ছাড়াই এককালীনভাবে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর গত ১১ বছরে দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন কোনো পে-স্কেল বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে চাকরিজীবীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বহনে তারা কঠিন চাপে রয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পে-স্কেল সরকারি চাকরিজীবীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনের কর্মস্পৃহা, কর্মদক্ষতা, জবাবদিহিতা ও জনসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বেতন বৃদ্ধি পেলে অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোগব্যয় বাড়বে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে এবং রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে।
সংগঠনটি বলেছে, দীর্ঘ ১১ বছরের ব্যবধান, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নবম পে-স্কেলকে যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী করতে হবে। একই সঙ্গে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে স্মরণকালের অন্যতম সেরা পে-স্কেল বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে ব্লক পোস্ট ও পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালের দাবিও জানানো হয়। সংগঠনের মতে, ২০০৫ ও ২০০৯ সালের পে-স্কেল দুই ধাপে এবং ২০১৫ সালের পে-স্কেল এককালীনভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল। তবে বর্তমান বাস্তবতায়, দীর্ঘ বিরতি ও মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে নবম পে-স্কেল এককালীনভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্যসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
এসএইচ