এবারের বাজেট সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য: অর্থমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
ফাইল ছবি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের পরদিন আজ প্রথাগত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেখানে সূচনা বক্তব্যেই তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, এবারের বাজেট সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য তৈরি করা হয়েছে। বিগত স্বৈরাচারী সময়ে জনগণের প্রকৃত আশা-আকাঙ্ক্ষার কোনো প্রতিফলন বাজেটে ছিল না।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল তিনটায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদারের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীর পাশে উপস্থিত রয়েছেন সরকারের একঝাঁক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও নীতিনির্ধারক।

মঞ্চে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত আছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী আ.ন.ম. এহসানুল হক মিলন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। এ ছাড়া প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় এক চ্যালেঞ্জের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানান, মাত্র তিন মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া এই সরকারের জন্য এত স্বল্প সময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বাজেট দেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার ছিল। এই বাজেট তৈরিতে দিনরাত যারা নিরলস পরিশ্রম ও সহযোগিতা করেছেন, সূচনা বক্তব্যে তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি মানুষকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মূল অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। সে কারণেই 'সবার জন্য বাংলাদেশ' স্লোগানকে সামনে রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক গণতন্ত্রের ধারণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এমন একটি সুষম বাজেট তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে মূল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে থাকা সাধারণ মানুষদেরও অন্তর্ভুক্ত করার আন্তরিক চেষ্টা করা হয়েছে।

অতীতের অর্থনৈতিক বৈষম্যের কঠোর সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের অর্থনীতি মূলত একটি বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে চলেছে। কিছু সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা সংগঠিত স্বার্থান্বেষী মহলই কেবল যাবতীয় অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করেছে। ফলে দেশের এক বিশাল জনগোষ্ঠী উন্নয়নের মূলধারার বাইরে ছিটকে পড়েছিল। এবারের বাজেটে সেই পুঞ্জীভূত বৈষম্য দূর করে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করার সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন, সরকারের হাতে সম্পদ সীমিত এবং নানা ধরনের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে এই বাস্তবতার মধ্যেও বাজেটে সমাজের প্রায় সব শ্রেণির মানুষের জন্য কমবেশি বরাদ্দ, কল্যাণমুখী কর্মসূচি ও সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি শুধু কোনো কাগুজে নীতিগত ঘোষণা নয়; ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় রোডম্যাপও বাজেটে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এ কারণেই এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট, অন্তর্নিহিত দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন টেকসই দিক, সরকারের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং সামনের দিনগুলোতে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশলগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে বাজেট নিয়ে অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মনে থাকা বিভিন্ন কৌতূহল এবং সাংবাদিকদের তীক্ষ্ণ প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিচ্ছেন তিনি।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এক বিশাল ও ঐতিহাসিক জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দেশের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আকারের বাজেট। মূলত মূল্যস্ফীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, নতুন বিনিয়োগ ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিধি সম্প্রসারণ এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও বেশি উৎপাদনমুখী ও বিকেন্দ্রীভূত করার মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই বাজেট সাজানো হয়েছে।

'অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রণীত এই প্রস্তাবিত বাজেটের আকার দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

এসএইচ