বাজেটে কর ছাড়ের সুফল মেলেনি বাজারে, উল্টো দাম বেড়েছে চাল ও মুরগির

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
ফাইল ছবি

নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে হাঁপিয়ে ওঠা নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের স্বস্তির জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাপক কর ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। বাজেট ঘোষণার পর কাঁচা মরিচ ছাড়া অন্য কোনো পণ্যের দাম তো কমেইনি, উল্টো চাল ও ব্রয়লার মুরগির দাম আরও বেড়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ঢাকা মহানগরীর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের খুচরা বাজারদরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র দেখা গেছে।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ জুন বাজেট প্রস্তাবের আগের দিন রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল (স্বর্ণা/চায়না/ইরি) বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়, যা বাজেটের পর গতকাল শনিবার ২ টাকা বেড়ে ৫২ টাকায় ঠেকেছে। একইভাবে মাঝারি মানের চালের (পাইজাম/আটাশ) কেজি ৫৪ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৫ টাকা। স্বল্প আয়ের মানুষের আমিষের প্রধান উৎস ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা বাজেটের আগে ছিল ১৬০ টাকা। টিসিবির তালিকায় থাকা ৫৭টি পণ্যের মধ্যে কেবল কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৭০ টাকা থেকে কমে ৬০ টাকা হয়েছে। বাকি ৫৪টি পণ্যের দাম আগের মতোই চড়া রয়েছে।

বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহ থেকে বাজারের পরিস্থিতি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজেট ঘোষণার কারণে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন মূল্য পরিবর্তন চোখে পড়েনি। উল্টো উচ্চমূল্যের কারণে ভোক্তাদের স্বস্তি মিলছে না। অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজেট ঘোষণার কারণে এখনো কোনো পণ্যের দামে পরিবর্তন আসেনি। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যে দামে পণ্য দিচ্ছে, সে অনুযায়ী তাঁদের বিক্রি করতে হচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজেট ঘোষণার পর সাধারণত শুল্ক বা কর হ্রাসের প্রভাব খুচরা বাজারে পড়তে কিছুটা সময় লাগে। ফলে এখনই বড় ধরনের পরিবর্তন না দেখা গেলেও আগামী কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকে নজর রাখছেন ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা।

তবে এবারের বাজেটে চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর ৫, ২ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া মসলা ও খেজুরের নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং শিশুখাদ্যের আমদানি শুল্ক ১৫ থেকে ১০ শতাংশে নামানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এতে বাজারে শিশুখাদ্যসহ এসব পণ্যের দাম কমবে।

কিন্তু এই সুবিধার সুফল পাওয়া নিয়ে এরই মধ্যে বড় সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ, করের আওতা বাড়াতে সরকার এবারই প্রথম খুচরা বিক্রেতাদের পণ্য সরবরাহের ওপর প্রতি ১ হাজার টাকায় ২ টাকা (দশমিক ২০ শতাংশ) হারে অগ্রিম কর সংগ্রহের প্রস্তাব করেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য করের হার বৃদ্ধি নয়; বরং করের ভিত্তি সম্প্রসারণ। এই উদ্দেশ্যে কয়েকটি বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। করভিত্তি সম্প্রসারণের জন্য খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য সরবরাহে দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম কর সংগ্রহের প্রস্তাব করছি। সংগৃহীত এই অগ্রিম করের পরিমাণ হবে অতি নগণ্য, প্রতি ১ হাজার টাকায় মাত্র ২ টাকা।

যদিও অর্থমন্ত্রী এটিকে অতি নগণ্য বলছেন, তবে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এই নতুন অগ্রিম করের কারণে দেশের লাখ লাখ খুচরা ব্যবসায়ীর ওপর করের বোঝা চাপবে। যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ঘাড়েই পড়বে এবং পণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এসএইচ