আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠা, সমাজে অনাকাঙ্ক্ষিত আচার-অনুষ্ঠান পরিহার এবং নীতিবান জাতি গঠনের ওপর জোর দিয়ে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্যকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন নেটিজেনরা।
গত সোমবার রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে ‘আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট’ (এআইআইআই) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সেনাপ্রধান। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বরিশাল, সাভার, বগুড়া, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোরে আরও সাতটি প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, সমাজে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত সংযোজন বা বিদআত বেড়েছে। দোয়াসহ ধর্মীয় নানা ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়া এসব বিষয় থেকে বেরিয়ে এসে কোরআন-সুন্নাহর সঠিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে ইসলামী শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে একটি সুস্থ ও আদর্শ সমাজ গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার পর্যালোচনায় সেনাপ্রধান উল্লেখ করেন, একদিকে সাধারণ শিক্ষায় ধর্মীয় মূল্যবোধের ঘাটতি রয়েছে, অন্যদিকে ইসলামী ধারার শিক্ষায় আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব দেখা যায়। এর ফলে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিতদের সমাজে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। তাই সময়ের চাহিদা মেনে আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বিত রূপ প্রয়োজন, যা আগামী ৩০ বছরের মধ্যে একটি আদর্শ ও নৈতিক জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে। নবপ্রতিষ্ঠিত এই ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ধর্মীয় নৈতিকতা একসঙ্গেই অর্জনের সুযোগ পাবে বলে জানান তিনি।
সেনাপ্রধানের এমন সুদূরপ্রসারী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন দূরদর্শী বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ব্যক্ত করছেন সাধারণ মানুষ। সুলতান মাহমুদ রুপশ নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী সেনাপ্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন।
জাকিরুল আলম মিলন নামের অপর একজন ব্যবহারকারী আলহামদুলিল্লাহ জানিয়ে দেশের জন্য এমন দ্বীনদার সেনাপ্রধানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বে সেনাবাহিনী আরও সুসংগঠিত হয়ে দেশের সেবা করবে।
অন্যদিকে ইসমাইল টোলিন নামের একজন লেখেন, দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মুখে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিকতার কথা শুনতে সবসময়ই ভালো লাগে। সেনাপ্রধানের এই চমৎকার প্রয়াস তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি দেশের কল্যাণ ও শৃঙ্খলার জন্য সেনাপ্রধানের সততা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার শুভকামনা জানান।
এসএইচ