জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে গোলকধাঁধা!

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
ফাইল ছবি

দুই বছর কেটে গেলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটেনি। উল্টো সরকারি হিসেব এবং আন্তর্জাতিক ও বেসরকারি পরিসংখ্যানের ব্যবধান ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই ইস্যুটি এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার ও প্রচারণার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিতর্কের প্রধান উৎস সরকারের জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের গেজেট এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়ের রিপোর্টের বৈষম্য। মুক্তি যুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তালিকায় নিহতের সংখ্যা ৮৪৩ জন বলা হলেও জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে তা প্রায় এক হাজার চারশত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় ৫০০ জনের এই ব্যবধান স্বৈরাচারী মনোভাবাপন্ন শক্তিকে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ করে দিচ্ছে।

এই বিশাল ফারাকের পেছনে মূলত সংজ্ঞাগত পার্থক্য এবং দালিলিক প্রমাণের অভাব কাজ করছে। সরকার কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের হামলায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের জুলাই শহীদ হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। অন্যদিকে জাতিসংঘ নিহত পুলিশ সদস্য, তৎকালীন সরকারি দলের কর্মী ও আন্দোলনকারী নির্বিশেষে সার্বিক প্রাণহানির হিসাব তৈরি করেছে।

তাছাড়া সংঘাতের দিনগুলোতে ভয়ভীতি, বিনা ময়নাতদন্তে দাফন এবং হাসপাতালে তথ্যের সঠিক নথি না রাখার কারণে অনেক প্রকৃত মৃতের নাম বাদ পড়েছে। রায়েরবাজারের মতো কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা বহু মরদেহের পরিচয় আজও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সরকারি তালিকায় নাম তুলতে কড়া আমলাতান্ত্রিক কাগজপত্রের বাধ্যবাধকতা থাকায় অনেক ভুক্তভোগী পরিবার এখনও তালিকার বাইরে রয়ে গেছে।

একাত্তরের শহীদের সংখ্যা নিয়ে যে দীর্ঘমেয়াদী বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, জুলাই অভ্যুত্থান নিয়েও একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে। কেবল একটি নির্ভুল ও সর্বজনগ্রাহ্য তালিকাই পারে এই বিতর্কের ইতি টানতে। তা না হলে রাজপথের এই রক্তক্ষয়ী ইতিহাস কেবলই কিছু অসম্পূর্ণ পরিসংখ্যানের কাগজে আটকা পড়ে থাকবে।

এসএইচ