শিশুদের প্রতিভায় মজবুত হবে দেশের ভিত্তি: প্রধানমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের নিজেদের প্রতিভা ও গুণাবলি বিকাশের সুযোগ করে দিতে পারলে দেশের ভিত্তি আরও মজবুত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীর এই অনুষ্ঠানে শৈশবের স্মৃতিচারণ করে সরকারপ্রধান বলেন, শিশু একাডেমির কার্যক্রম শুরুর সময় তিনিও শিশু হিসেবে সেখানে এসেছিলেন। শিশু একাডেমির 'শিশু' ম্যাগাজিনে নিজের ও ছোট ভাইয়ের লেখা প্রকাশের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠান মূলত শিশুদের নিয়ে, তাই বড়দের বক্তব্যের চেয়ে শিশুদের কথা শোনাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

প্রত্যেক শিশুর ভেতরে কোনো না কোনো বিশেষ গুণ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ ছবি আঁকতে পারে, কেউ কবিতা আবৃত্তি করে, আবার কেউ গান বা নাচে পারদর্শী। নিজের গিটার ও কিবোর্ড শেখার আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি শিশুদের বলেন, যারা বাদ্যযন্ত্র বাজানো, গান, নাচ কিংবা কেরাত ও কোরআন তেলাওয়াত পছন্দ করে, তাদের তা ভালোভাবে রপ্ত করতে হবে।

শিশুদের প্রতিভা বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, প্রথমবারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে সারাদেশে ২২ লাখ শিশু-১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে-ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। শিশুদের শুধু সংস্কৃতি নয়, খেলাধুলায়ও পারদর্শী করে তুলতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, 'নতুন কুঁড়ি' কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্রীড়া কার্যক্রম নতুন করে চালু করা হয়েছে।

দেশের অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে সন্তানদের এসব সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুরাও যেন শিল্প, সংস্কৃতি, সংগীত ও খেলাধুলার সুযোগ পায়, সে জন্য স্কুল পর্যায় থেকে সুবিধা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত কাজ গুছিয়ে আনা হয়েছে এবং ২০২৭ কিংবা ২০২৮ সাল থেকে পুরো প্রক্রিয়া শুরুর লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী গান, বাদ্যযন্ত্র ও খেলাধুলার ক্ষেত্র বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করতে স্কুল পর্যায় থেকেই অতিরিক্ত বিদেশি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান ও জাপানিজসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে শিশুরা নিজেদের পছন্দের ভাষা বেছে নিতে পারবে।

প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাড়ি, স্কুল কিংবা আশপাশের গাছের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি পশুপাখির প্রতিও সদয় হতে হবে। প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এসএইচ