ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয় নিয়ে সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিএনপি নেতৃত্ব এখনই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেওয়ার বা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপি নেতারা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রয়েছে। তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত বা সংসদে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ না হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ নেই। ফলে এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের প্রশ্ন তোলার প্রয়োজনীয়তা তারা দেখছেন না।
দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলে অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে। বিএনপি সরকার আপাতত সংসদ গঠন, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সমন্বয়ের মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাই রাষ্ট্রপতি ইস্যুকে সামনে না এনে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপি সূত্র বলছে, দলটি শুরু থেকেই সংবিধান সমুন্নত রাখার অবস্থান নিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময়ও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল বিএনপি। তাদের যুক্তি ছিল, রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দিলে সাংবিধানিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক হিসাবও সামনে রাখছে দলটি। ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর আলোচনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ অব্যাহত থাকলে বিএনপি সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও রাষ্ট্রপ্রধানের পদে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে বলে মনে করছেন দলের নীতিনির্ধারকেরা।
এদিকে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, আপাতত তাকে বহাল রেখেই সাংবিধানিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চায় বিএনপি সরকার। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তন হলে রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে নতুন আলোচনা সামনে আসতে পারে।
এসএইচ