মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক র্যালি-পরবর্তী সমাবেশে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পূর্ণ হলেও দেশের মানুষ এখনও স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে সকাল ১০টায় শুরু হওয়া র্যালিটি পল্টন, জাতীয় প্রেসক্লাব ও মৎস্য ভবন মোড় হয়ে শাহবাগে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিবগাতুল্লাহ বলেন, “এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার পরও বারবার শাসকগোষ্ঠী জনগণের অধিকার খর্ব করেছে। ফলে মানুষ এখনও স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত।” তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমর্থন পাওয়া সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সরকার উদাসীন।
সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনই সংবিধানে থাকা উচিত।” পাশাপাশি গুম ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সরকারের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শিক্ষা খাতের সমালোচনা করে সিবগাতুল্লাহ বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও একটি যুগোপযোগী ও মানবিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি এবং তরুণরা এখনও তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ। এছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আমিরুল ইসলাম ও ইউসুফ ইসলাহীসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা দেশ ও জাতির এই সংকটময় সময়ে ছাত্রসমাজকে সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এসএইচ