দেশে ফেরা বা রাজনীতি করা আপাতত  সুযোগ নেই

কী হবে তারেক রহমানের

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০১৭, ১০:৪১ এএম

ঢাকা : তারেক রহমানের কী হবে শেষ পর্যন্ত। তিনি দেশে আসতে পারবেন তো। বিএনপির সিনিয়র এই নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি শেষ হয়ে গেছে? এমন প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিএনপির একটি অংশ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বা রাজনীতির হাল ধরার সুযোগ আপাতত তো নেই-ই, ভবিষ্যতে আছে কি না তা নিয়েও তারা সন্দিহান। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরার অনুকূল পরিবেশ সুদূরপরাহত। জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক ‘মিথ্যা মামলা’সহ সরকারের অনমনীয় মনোভাবই তার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বড় বাধা বলে তারা মনে করছেন।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাবনা কতটা উজ্জ্বল হবে, মূলত এর ওপরই নির্ভর করছে তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং দলের রাজনৈতিক কার্যক্রমের হাল ধরা। ফলে লন্ডনেই দীর্ঘসময় থাকতে হতে পারে বিএনপির পরবর্তী শীর্ষনেতা তারেক রহমানকে। এ ছাড়া দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণেই আরো বিলম্বিত হতে পারে তারেক রহমানের দেশে ফেরা। পাশাপাশি গত ৯ বছর ধরে লন্ডনে অবস্থান করা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলায় গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি রয়েছে। আর মুদ্রাপাচারের এক মামলায় তার সাত বছরের সাজার রায় হয়েছে গত বছর। এমন পরিস্থিতিতে তার মা খোদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও তার (তারেক রহমান) দেশে ফেরার বিরুদ্ধে রয়েছেন। 

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক একটি দলের শীর্ষস্থানীয় একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় আছেন তার মা খালেদা জিয়া। জোটের শরিক এই নেতার দাবি, আগামীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে আন্তর্জাতিক হিসাব-নিকাশ ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গেলেও তা মেনে নেবেন খালেদা জিয়া। কারণ যেকোনো মূল্যে আবার ক্ষমতায় যেতে আগ্রহী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। এদিকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতামত জানতে বিএনপির কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখভাল করেন এমন কয়েকজন নেতাকে ফোন করা হলে তারা বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতার মতে, দলীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি তারেক রহমান রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। দেশে যেখানে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারেই আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেখানে দেশে ফিরলেই যে তিনি স্বাভাবিক আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারবেন, এর কোনো গ্যারান্টি নেই। সংশ্লিষ্ট এসব নেতার দাবি, আইনি মোকাবিলার জন্য দেশে এলেই তারেক রহমান গ্রেফতার হতে পারেন। জেলের ভেতরেই তাকে দিন কাটাতে হবে। তিনি ন্যায়বিচার পাবেন- এটা আশা করা যায় না। এ মুহূর্তে তারেক রহমান দেশে ফিরলে, তার প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য লন্ডনে রয়েছেন। আর দেশে বর্তমানে যে অবস্থা, তাতে করে দেশে ফেরার মাধ্যমে তার (তারেক রহমান) আগুনের ভেতরে ঝাঁপ দেয়ার কোনো অর্থ হতে পারে না। দেশে বর্তমানে মানুষের নিরাপত্তা নেই, স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক নেতাই নির্বাসনে থেকে দেশের রাজনীতিতে ভূমিকা রাখছেন। তেমনি তারেক রহমানও রাখছেন।’ 

বর্তমান সরকার তারেক রহমানকে দেশে ফিরতে বাধা দিচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘দেখুন এটা আমি মনে করছি না। মূলত গণতন্ত্রহীন দেশের বর্তমান সার্বিক অবস্থা বেশি ভালো নেই। এ অবস্থা বিবেচনা করে এবং সর্বোপরি তার (তারেক রহমান) চিকিৎসা শেষেই তিনি দেশে ফিরবেন।’

তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে বিএনপির আরেক ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা, না-ফেরা তার আইনজীবী, চিকিৎসক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। বর্তমান সরকারপ্রধান ও আওয়ামী লীগ নেতারা তারেক রহমানকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন। তারেক রহমান আগামী দিনে দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। বিএনপির নেতৃত্ব দেবেন- এটাই আমরা মনে করি। 

এ ছাড়া তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এসব মামলা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিনি দেশে ফিরলে এসব ব্যাপারে কার্যকরী ব্যবস্থা নেবেন।  

প্রসঙ্গত, আগামী ১০ বছরের মধ্যে তারেক রহমান দেশের রাজনীতিতে ফিরছেন, এমনটি ভাববার কারণ নেই বলে বিএনপির অনেকে মনে করেন। যদিও একসময় সরকারি দলের নেতারা মনে করতেন, তারেক রহমান যেদিন দেশে ফিরবেন, সেদিন জনস্রোতে রাজধানী ঢাকা অচল হয়ে যাবে। তার ছোট ভাই অকালপ্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর জানাজায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ঢল সেই ইঙ্গিতই দিয়েছিল। কিন্তু বিএনপির জনপ্রিয়তা থাকলেও দলের একাংশই এখন আর তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে এমন স্বপ্ন দেখেন না। 

এদিকে বিএনপির একটি বড় অংশের মাঝে বর্তমানে একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে- দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আছে কি না তা নিয়ে। খালেদা জিয়ার ভবিষৎ নিয়েই তারা এখন বেশি উদ্বিগ্ন। অন্তত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি অংশগ্রহণ করতে পারলেই রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে- এমনটি ভাবছেন তারা। যদিও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে জাতীয় নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে খালেদা জিয়া এখনো অনড়। কিন্তু দলের নেতাদের একটি অংশ মনে করছেন, এমনটি হলে নির্বাচন বর্জনের পথ জনপ্রিয় হলেও বিএনপি রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাবে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এমটিআই