এক ম্যাচ হাতে রেখে আগেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে টাইগারদের সামনে সুযোগ ছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হোয়াইটওয়াশ করার। তবে শ্বাসরুদ্ধকর তৃতীয় ওয়ানডেতে তীরে এসে তরী ডুবিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তরা। ৩ বল বাকি থাকতে মাত্র ১ উইকেটের জয়ে হোয়াইটওয়াশ থেকে রক্ষা পেয়েছে অজিরা। আর বাংলাদেশ সিরিজ জিতেছে ২-১ ব্যবধানে।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো ছিল না বাংলাদেশের। মাত্র ৫৩ রানে ২ উইকেট হারায় দল। নাজমুল হোসেন শান্ত ২৪ ও তানজিদ হাসান তামিম ১৯ করলেও সৌম্য সরকার ফেরেন মাত্র ২ রানে। ৬১ রানে তৃতীয় উইকেট পড়লে বেশ চাপে পড়ে স্বাগতিকেরা।
ঠিক সেই মুহূর্তে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয়। দুজনের অসাধারণ জুটিতে দল একশ পার করে। লিটন দলীয় ১৫৩ রানে ব্যক্তিগত ৪৮ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন। তবে হৃদয় লড়াই চালিয়ে যান। ৮৮ বলে ৮টি চারের সাহায্যে ৮৩ রান করে বেন ডারশুইসের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। শেখ মেহেদী মাত্র ৩ রান করে আউট হলে আবার মাঠে ফেরেন লিটন। এবার তিনি ঘরের মাঠে ওয়ানডের প্রথম হাফসেঞ্চুরির দেখা পান। শেষ পর্যন্ত তিনি ৭৮ বলে অপরাজিত ৫৮ রান করেন। অন্যদিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৫১ বলে ৫৬ রানে অপরাজিত থাকলে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৭৪ রানের লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
২৭৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। ওপেনার কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিস মিলে দ্রুত ৪০ রান তুলে ফেলেন। ইংলিসকে ১২ বলে ২১ রানে ফিরিয়ে প্রথম ধাক্কা দেন শরিফুল ইসলাম। একই ওভারে তিনি ম্যাট রেনশকে শূন্য রানে ফেরান।
৭০ রানে ৩ উইকেট হারনোর পর এক প্রান্ত আগলে রেখে একাই লড়াই চালিয়ে যান কনোলি। মাঝে অ্যালেক্স ক্যারি ৮, মারনাস লাবুশেন ২৯ ও ক্যামেরন গ্রিন ২৭ রান করে বিদায় নিলেও কনোলি দারুণ এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অজিদের জয়ের পথ সহজ করে দেন। শেষ দিকে ওলিভার পিককে নিয়ে ভালো জুটি গড়েন তিনি।
ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়তা বাড়ান শরিফুল ইসলাম। পরপর দুই বলে ওলিভার পিক ও জাভিয়ের বার্টলেটকে তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪৮ রানে ৬ উইকেট নেন এই বাঁহাতি পেসার, যা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ইতিহাসে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা বোলিং ফিগার। এরপর ১৪৯ রানে দুর্দান্ত খেলা কনোলিকে মুস্তাফিজুর রহমান বোল্ড আউট করলে ম্যাচ আবার জমে ওঠে।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল মাত্র ৪ রান। তাসকিন আহমেদের প্রথম বলে ১ রান নেওয়ার পর দ্বিতীয় বলটি ডট হয়। তবে তৃতীয় বলে অ্যাডাম জাম্পা চার মেরে ৩ বল বাকি থাকতেই ১ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে শরিফুল ৬টি এবং তাসকিন, মুস্তাফিজ ও মেহেদী ১টি করে উইকেট নেন।
এসএইচ