ঢাকাসহ সারা দেশে ভয়াবহ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে ১০টা ৩৮ মিনিটে এই ভূমিকম্প হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ২ বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং এর কেন্দ্রস্থল ঘোড়াশালের নিকটবর্তী এলাকা।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প: ইতিহাসের ভয়াবহ কম্পনগুলো কোথায় হয়েছিল
রাশিয়ার ক্যামচাটকা উপদ্বীপের কাছে ৩০ জুলাই আঘাত হানা ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্প সেদিন মনে করিয়ে দেয়—পৃথিবীতে শক্তিশালী কম্পনের ঘটনা নতুন কিছু নয়। সেদিন স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে হওয়া ভূমিকম্পের ফলে সুনামি সৃষ্টি হয়, জরুরি পরিস্থিতিতে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়।
আধুনিক ভূকম্পবিজ্ঞানের সূচনালগ্ন ১৯০০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি ভূমিকম্প ক্যামচাটকার সাম্প্রতিক কম্পনের চেয়ে বেশি শক্তিশালী বলে লিপিবদ্ধ হয়েছে।
ইতিহাসের পাঁচ শক্তিশালী ভূমিকম্প
১. চিলির ভালডিভিয়া ভূমিকম্প (১৯৬০) – মাত্রা ৯.৫
ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) অনুযায়ী এটিই এখন পর্যন্ত রেকর্ডকৃত সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে ১,৬৫৫ জনের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।
২. আলাস্কা ভূমিকম্প (১৯৬৪) – মাত্রা ৯.২
ভয়াবহ কম্পনে বিশাল সুনামি সৃষ্টি হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি করে।
৩. গ্রেট তোহোকু ভূমিকম্প, জাপান (২০১১) – মাত্রা ৯.১
শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামিতে ডুবে যায় উপকূলীয় এলাকা। পরিণামে ঘটে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা—ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়।
৪. সুমাত্রা ভূমিকম্প, ইন্দোনেশিয়া (২০০৪) – মাত্রা ৯.১
ভারত মহাসাগরজুড়ে সুনামি সৃষ্টি করে মৃত্যুর মিছিল—দুই লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
৫. ক্যামচাটকা ভূমিকম্প, রাশিয়া (১৯৫২) – মাত্রা ৯.০
শক্তিশালী কম্পনের প্রভাবে হাওয়াইয়ে সৃষ্ট সুনামিতে এক মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়।
২০২৫ সালের ৩০ জুলাইয়ের ক্যামচাটকা ভূমিকম্প (৮.৮ মাত্রা) এখন এই তালিকার ষষ্ঠ শক্তিশালী কম্পন হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এর আগে ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্প ২০১০ সালে চিলিতে এবং ১৯০৬ সালে ইকুয়েডরের উপকূলে রেকর্ড করা হয়েছিল।
কিভাবে ভূমিকম্প সুনামিতে রূপ নেয়?
পৃথিবীর বাইরের কঠিন স্তরটি অনেকগুলো টেকটোনিক প্লেটে বিভক্ত। এগুলো ধীরে ধীরে নড়াচড়া করে—প্রায় নখ বাড়ার গতির সমান। কোনো কোনো সময় প্লেটগুলো পরস্পরের সঙ্গে আটকে থাকে, ফলে চাপ জমে। চাপ নির্দিষ্ট মাত্রা ছাড়ালে প্লেট হঠাৎ সরে যায় এবং সেই শক্তি ভূমিকম্প হিসেবে মুক্ত হয়।
যদি এ ঘটনা সমুদ্রের নিচে ঘটে, তবে সমুদ্রতলের স্থানচ্যুতি পানিকে উপরে ঠেলে দেয়। বিশাল জলরাশি তরঙ্গ তৈরি করে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসে—যাকে বলা হয় সুনামি।
হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূকম্পবিদ হেলেন জানিশেভস্কির ভাষায়, “সুনামির গতি প্রায় জেট বিমানের সমান। উৎপত্তিস্থল থেকে উপকূলে পৌঁছাতে বিমানের মতো সময়ই লাগে।”
এম